‘২০ দিনের বিধায়ক, মমতার দয়ায় বিধানসভায়’, বহিষ্কৃতদের কড়া আক্রমণ কুণালের

‘২০ দিনের বিধায়ক, মমতার দয়ায় বিধানসভায়’, বহিষ্কৃতদের কড়া আক্রমণ কুণালের

মমতার দয়ায় বিধানসভায় ঢোকা বিধায়কদের নিয়ে কেন ফুঁসছেন কুণাল?

বিধানসভার স্বাক্ষর-বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ এবার চূড়ান্ত আকার নিল। দলের সিদ্ধান্তে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পরই তাঁদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি ওই দুই বিধায়কের রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

দলের আস্থার বিনিময়ে বিশ্বাসঘাতকতা

কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকারের কাছে স্বাক্ষর জালিয়াতি নিয়ে অভিযোগ করার আগে দলীয় স্তরে কোনো আলোচনাই করেননি ঋতব্রত ও সন্দীপন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই দুই বিধায়ক তৃণমূলের প্রতীকে এবং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। দলের কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁরা যে পথে হেঁটেছেন, তা কেবল অধৈর্য নয়, বরং রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা। কুণালের দাবি, দলের অন্দরে অভাব-অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার পক্ষের কাছে অভিযোগ নিয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত

এই ঘটনার পেছনে বিরোধী শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতাকে দায়ী করছেন কুণাল। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, দল যখন ক্ষমতায় ছিল তখন অনেকেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চেয়েছেন, কিন্তু পরিস্থিতির বদল ঘটতেই রাজনৈতিক আনুগত্য বদলে ফেলা হচ্ছে। বিশেষত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত দলবদলের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে কুণাল জানান, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিলেও তিনি আস্থার মর্যাদা রাখেননি। অন্যদিকে, সন্দীপন সাহার ক্ষেত্রে ভুল রাজনৈতিক পরামর্শের প্রভাব থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এই বহিষ্কার ও পালটা অভিযোগের ঘটনা তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্থিরতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল। বিধায়কদের এই আচরণ দলের অন্দরে ভাঙনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। একইসঙ্গে, আগামী দিনে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক কোন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *