কাটমানি ফেরত চাওয়াই কি কাল হলো, মালের তৃণমূল কাউন্সিলরসহ গ্রেফতার ৫

জলপাইগুড়ির মাল পুরসভায় আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ মারধরের ঘটনা সামনে এসেছে। দুর্নীতির টাকা ফেরত চাওয়ায় এক ব্যক্তিকে গুন্ডা দিয়ে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত মাল পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অজয় লোহারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মাল পুরসভার অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কাটমানি বিতর্ক ও হামলার নেপথ্যে
ঘটনার সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী বিপুল বর্মণের দাবি, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি নিয়েছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর অজয় লোহার। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বিপুলবাবু ঘরও পাননি এবং তাঁর দেওয়া টাকাও ফেরত পাননি। বারবার টাকা ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, নিরুপায় হয়ে বিপুল ও তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা বর্মণ মালবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশে অভিযোগ জানানোর পর থেকেই ওই পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয় বলে দাবি প্রীতিলতার। অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কাউন্সিলর অজয় লোহার ও তাঁর ভাই আনন্দ লোহার। সোমবার রাতে বিপুল বর্মণ বাড়ি ফেরার সময় মালবাজারের চৌপতি এলাকায় কাউন্সিলরের অনুগামীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করে। বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় বিপুলবাবু মালবাজার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তদন্তে পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রভাব
স্ত্রীর পুনরায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কাউন্সিলর অজয় লোহার, তাঁর ভাই আনন্দ লোহা এবং মালবাজারের তৃণমূল টাউন ব্লক সভাপতিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যখন দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি বা কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার হিড়িক চলছে, তখন মালবাজারের এই ঘটনা শাসকদলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। কাটমানি নেওয়া, থানা থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং প্রকাশ্য রাস্তায় হামলার মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।