পহেলগাম হামলায় কি হামাস যোগ? এনআইএ-র নজরে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক

পহেলগাম হামলায় কি হামাস যোগ? এনআইএ-র নজরে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক

পহেলগাম জঙ্গি হামলার তদন্তে হামাসের (Hamas) সম্ভাব্য যোগসূত্র উঠে আসার বিষয়টি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। গত বছরের ভয়াবহ এই হামলার তদন্তে এনআইএ (NIA) যে নতুন দিকগুলো খতিয়ে দেখছে, তার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

তদন্তের মূল দিকসমূহ:

  • আন্তর্জাতিক সংযোগ: এনআইএ মূলত খতিয়ে দেখছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন (যেমন—লস্কর-ই-তৈবা, জৈশ-ই-মহম্মদ ও টিআরএফ) এবং গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে কোনো কৌশলগত বা আদর্শগত সমন্বয় তৈরি হয়েছে কি না। ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার পূর্ববর্তী তথ্যের ভিত্তিতেও এই নতুন আন্তর্জাতিক যোগসূত্রটি গুরুত্ব পাচ্ছে।
  • হামলার ধরন ও কৌশল: তদন্তকারীরা দেখছেন পহেলগাম হামলার পরিকল্পনা, ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার, এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল যোগাযোগ এবং প্রচার কৌশলে হামাসের হামলার ধরনের সাথে কোনো সাদৃশ্য আছে কি না। বিশেষ করে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ অপারেশন এবং লোন উলফ (Lone Wolf) র‍্যাডিক্যালাইজেশনের কৌশল এখানে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • টিআরএফ-এর ভূমিকা: এই হামলায় লস্কর-ই-তৈবার প্রক্সি সংগঠন ‘দ্য রেজিসট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের দায় স্বীকার করার বিষয়টি এনআইএ-র তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
  • সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল ট্রেল: প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছিল, হামলাকারীরা পাকিস্তান থেকে নির্দেশ পাচ্ছিল এবং তাদের ডিজিটাল ট্রেল মুজফফরাবাদ ও করাচি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আধুনিক ও বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সি সম্পন্ন ওয়্যারলেস সেটের ব্যবহার এই হামলার পরিকাঠামোয় বাইরের কোনো শক্তিশালী মদতদাতার উপস্থিতি প্রমাণ করে।

নিরাপত্তার ঝুঁকি:

যদি হামাস এবং পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই আঁতাত প্রমাণিত হয়, তবে তা ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এনআইএ-র সন্দেহ, শুধুমাত্র কাশ্মীর নয়, ভারতের বিভিন্ন শহরে হামলার জন্য নতুন ধরনের মডিউল তৈরি করা হচ্ছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও বিস্ফোরক (IED) পাচারের চেষ্টা চলছে।

এই মুহূর্তে এনআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছালেও, এই নতুন আন্তর্জাতিক সংযোগটি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গোয়েন্দারা এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে যুবকদের প্রভাবিত করার কৌশলটিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *