ঝালমুড়ি রাজনীতির পর এবার কি মুড়ি পর্বেই ভাঙনের মুখে তৃণমূল?
নির্বাচনের আগে ঝালমুড়ি খেয়ে যে বাঙালি আবেগের রাজনীতির সূচনা হয়েছিল, তা এবার নতুন মোড় নিল বিধানসভায়। ছাব্বিশের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার শাসকদল তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন ও সমান্তরাল শক্তি প্রদর্শনের পালা। সই জালিয়াতি কাণ্ড এবং ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের দলত্যাগের জল্পনার মাঝেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মুড়ি-পর্ব’। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলের নেতৃত্বের একাংশের প্রতি আক্রমণাত্মক মনোভাব পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।
এমএলএ হোস্টেলের গোপন বৈঠক ও মুড়ি রাজনীতি
বিধানসভায় সই জাল করার অভিযোগ এবং দলের ভেতরের অসন্তোষকে কেন্দ্র করে এমএলএ হোস্টেলে তৃণমূলের ১৫-১৬ জন বিধায়ক একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হন, যার মধ্যে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বিধায়করাও ছিলেন। এই বৈঠক ঘিরেই জল্পনা তৈরি হয় যে, প্রায় ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের একটি রেজুলিউশন স্পিকারের কাছে জমা পড়তে চলেছে। তবে এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক বৈঠককে নিতান্তই হালকা চালে ‘মুড়ি খাওয়ার আড্ডা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পেঁয়াজ, লঙ্কা ও শশা দিয়ে মুড়ি খাওয়ার এই নতুন তত্ত্ব বাংলার চেনা ‘ফিশ ফ্রাই’ রাজনীতিকে টেক্কা দিয়ে এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নেতৃত্বের সংঘাত এবং কর্পোরেট সংস্কৃতির ব্যর্থতা
তৃণমূলের এই বর্তমান সংকটের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত পরিবর্তনকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল আদর্শ থেকে সরে এসে দলটিকে একটি ‘কর্পোরেট স্টাইলে’ পরিচালনা করার যে চেষ্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরা করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। দলের এই করুণ পরিণতির জন্য সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। একই সাথে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে দলের তরুণ নেতৃত্বের পরস্পরবিরোধী অবস্থানকেও প্রকাশ্যে কটাক্ষ করা হচ্ছে।
দল থেকে ‘গদ্দার’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দিয়ে বহিষ্কার করা হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ঋতব্রতের এই প্রকাশ্য আনুগত্য এবং একই সাথে দলের বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃণমূলের ভেতরের ফাটল এখন আর শুধু গোপন ক্ষোভের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মুড়ি রাজনীতির প্রভাব আগামী দিনে দলটির অস্তিত্ব এবং সাংগঠনিক শক্তির ওপর কতটা বড় আঘাত হানে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।