অস্তিত্ব সংকটে ঘাসফুল, এবার কি তবে প্রতীক বাতিলের মুখে তৃণমূল?

অস্তিত্ব সংকটে ঘাসফুল, এবার কি তবে প্রতীক বাতিলের মুখে তৃণমূল?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী আসনে বসার আগেই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন দুই বিধায়ক— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এই দুই বহিষ্কৃত বিধায়ককে কেন্দ্র করে এখন দলের অন্দরে একটি সমান্তরাল গোষ্ঠী গড়ে উঠছে, যা ঘিরে ক্রমশ সমবেত হচ্ছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশ। বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ জন বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙনের জেরে দলটির রাজনৈতিক অস্তিত্বই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ভিতরের কোন্দল ও ভাঙনের রাজনীতি

তৃণমূলের এই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দলটির চরম দুর্দশা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি প্রয়াত প্রবীণ নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের একটি পুরনো মন্তব্য স্মরণ করেন। তিনি জানান, সুব্রত মুখোপাধ্যায় একসময় ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছিলেন যে এটি আর কোনো সুসংহত দল নেই, বরং স্টেশন প্ল্যাটফর্মের মতো হয়ে গেছে, যেখানে মানুষ নিজের সুবিধামতো ট্রেনে চড়ে বিভিন্ন দিকে চলে যাচ্ছে। দিলীপ ঘোষের মতে, সেই কথাই এখন অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হচ্ছে। বিভিন্ন সুবিধাবাদী মানুষ যারা কেবল ব্যক্তিস্বার্থ ও অর্থ উপার্জনের জন্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছিল, তারা এখন ভয়ে ঘর থেকে বেরোচ্ছে না এবং যে যেখান থেকে এসেছিল, আবার সেখানেই ফিরে যাচ্ছে।

প্রতীক বাতিল ও দল ভাঙার আশঙ্কা

বিধানসভায় পা রাখার আগেই দুই বিধায়কের সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনাকে দলের ‘মুষলপর্ব’ তথা ধ্বংসের সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন দিলীপ ঘোষ। দলটির রাজনীতিতে থাকার কোনো অধিকার নেই দাবি করে তিনি সরাসরি তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রতীক ‘ঘাসফুল’ ব্যান বা বাতিল করার দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি দাবি করেছেন, আগামী ২২ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তৃণমূল আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যাবে এবং বিক্ষুব্ধ অংশটি আলাদা একটি নতুন দল গঠন করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও ভাঙন রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতে এক বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *