নিশ্চিত মাসিক আয়ের দারুণ সুযোগ, পোস্ট অফিসের এই বিশেষ স্কিমে স্ত্রীসহ বিনিয়োগে মিলবে প্রতি মাসে ৯২৫০ টাকা

নিশ্চিত মাসিক আয়ের দারুণ সুযোগ, পোস্ট অফিসের এই বিশেষ স্কিমে স্ত্রীসহ বিনিয়োগে মিলবে প্রতি মাসে ৯২৫০ টাকা

নিরাপদ বিনিয়োগ এবং আকর্ষণীয় নিশ্চিত মুনাফার জন্য পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের কাছে বরাবরই অত্যন্ত জনপ্রিয়। শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক—সবার আর্থিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই সরকারি এই প্রকল্পগুলো ডিজাইন করা হয়েছে। তবে যারা অবসরের পর বা নিয়মিত সংসার খরচ চালানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের উৎস খুঁজছেন, তাদের জন্য পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিম (এমআইএস) একটি সেরা বিকল্প হতে পারে। বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে স্ত্রীয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই স্কিমে এককালীন বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে নিশ্চিত ৯,২৫০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব, যা মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের বাজার খরচের বোঝা অনেকটাই লাঘব করতে পারে।

আকর্ষণীয় সুদ ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা

পোস্ট অফিসের এমআইএস স্কিমে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত, কারণ স্বয়ং ভারত সরকার এই তহবিলের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়ে এই স্কিমে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। একক অ্যাকাউন্ট ছাড়াও সর্বোচ্চ তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক মিলে যৌথ বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে এখানে। বর্তমানে এই প্রকল্পে সরকারের তরফ থেকে বার্ষিক ৭.৪০ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় সুদ দেওয়া হচ্ছে, যার মেয়াদকাল পাঁচ বছর।

বিনিয়োগের নিয়ম ও মাসিক আয়ের হিসাব

এটি মূলত একটি এককালীন বিনিয়োগ ভিত্তিক স্কিম, যেখানে মাত্র একবার টাকা জমা রেখেই পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়। নিয়ম অনুযায়ী, একক (সিঙ্গেল) অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ টাকা এবং যৌথ (জয়েন্ট) অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। যৌথ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বিনিয়োগে সকল অংশীদারের সমান অধিকার থাকে। অ্যাকাউন্ট খোলার ঠিক পরের মাস থেকেই সুদের টাকা অ্যাকাউন্টে আসতে শুরু করে।

যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীয়ের সঙ্গে একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা এককালীন বিনিয়োগ করেন, তবে ৭.৪০ শতাংশ বার্ষিক সুদের হারে তিনি প্রতি মাসে ঠিক ৯,২৫০ টাকা করে আয় করতে পারবেন। অন্যদিকে, একক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে সুদের অঙ্ক দাঁড়াবে ৫,৫০০ টাকা। গ্রাহকরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী এই সুদের টাকা মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে তুলতে পারেন।

মেয়াদপূর্ব বন্ধের প্রভাব ও অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি

পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে এই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আর্থিক লোকসান হতে পারে। অ্যাকাউন্ট খোলার এক থেকে তিন বছরের মধ্যে তা বন্ধ করতে চাইলে মূলধনের ২ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়। আবার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বন্ধ করলে কাটা যায় মূলধনের ১ শতাংশ। তবে অ্যাকাউন্টধারীর আকস্মিক মৃত্যু হলে মেয়াদপূর্তির আগেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যায় এবং জমার টাকা মনোনীত ব্যক্তিকে (নমিনি) ফেরত দেওয়া হয়।

এই নিশ্চিত আয়ের প্রকল্পে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। যেকোনো নিকটস্থ পোস্ট অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র ও কেওয়াইসি (KYC) ফর্ম পূরণ করতে হবে। এর সাথে প্যান কার্ডের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিলেই সহজে এই অ্যাকাউন্ট চালু করা সম্ভব। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রেখে স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করতে এই সরকারি উদ্যোগটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *