জাপানে বিপাকে পাক দূতাবাস, ভাঙার মুখে অবৈধ মসজিদ!

জাপানের কাওয়াগো সিটিতে পাকিস্তানিদের দ্বারা নির্মিত একটি মসজিদ বর্তমানে ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নির্মিত এই বিতর্কিত উপাসনালয়টি নিয়ে জাজল নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গত এপ্রিলে জাপানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ ব্যক্তিগতভাবে এই মসজিদের উদ্বোধন করেছিলেন, যা এখন কূটনৈতিক পর্যায়ে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনি জটিলতায় বেআইনি নির্মাণ
কাওয়াগো পৌরপ্রশাসন জানিয়েছে, যে এলাকায় মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি নগরোন্নয়নের নিয়ন্ত্রিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে অনুমতিবিহীন যেকোনো ধরনের নির্মাণকার্য আইনত নিষিদ্ধ। প্রশাসন ইতিমধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। এদিকে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তোপের মুখে পড়েছে টোকিওতে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস। দূতাবাসের দাবি, মসজিদটি যে অবৈধ তা তারা জানত না এবং জাপানের আইন লঙ্ঘন করে এমন কোনো প্রকল্পের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
জনরোষ ও কূটনৈতিক অস্বস্তি
জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মসজিদ নির্মাণের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন শহর ও উপকূলে এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত জাজল নাগরিকদের জনরোষ এবং কঠোর অবস্থানের কারণেই কাওয়াগোর এই অবৈধ মসজিদটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ এপ্রিলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সময় দাবি করেছিলেন যে, সব ধরনের আইনি অনুমোদন পাওয়ার পরেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাজল আইন মেনে চলার জন্য প্রবাসী পাকিস্তানিদের প্রতি কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই ঘটনা জাপানে বসবাসরত পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি পাকিস্তান ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।