তৃণমূলের অন্দরে চরম ভাঙন, হাতছাড়া হতে চলেছে ঘাসফুল প্রতীক!

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। একের পর এক বিধায়ক ও কাউন্সিলর গ্রেফতার এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান অনাস্থা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে ৬০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং কালীঘাটের সঙ্গে সিংহভাগ সাংসদের দূরত্ব প্রমাণ করছে, তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ এখন আলগা হয়ে আসছে। মঙ্গলবার ধর্মতলার কর্মসূচিতে মাত্র তিন সাংসদ ও ছয় বিধায়কের উপস্থিতি এই ভাঙনের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর লক্ষ্য নির্বাচন কমিশন
দলের অন্দরে গুঞ্জন উঠেছে, বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে ৫০ জন বিধায়ক জোট বেঁধেছেন। শুধু আলাদা গোষ্ঠী গঠনই নয়, দলের নাম ও প্রতীক ‘ঘাসফুল’ নিজেদের দখলে নিতে তারা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙন বা ১৯৭৮ সালে কংগ্রেসের অন্দরে ইন্দিরা গান্ধীর প্রতীক হারানোর ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সেই সমীকরণে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ ফসকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
নেতৃত্বের সংঘাত ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা
এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে বিদ্রোহীদের আপত্তি। বিদ্রোহী বিধায়কদের স্পষ্ট দাবি, মমতার নেতৃত্বের প্রতি তাদের কোনো বিরোধ না থাকলেও, দলকে কর্পোরেট সংস্থার আদলে পরিচালনা করার বিষয়টি তারা মেনে নেবেন না। তারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপসারণ চেয়েছেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। যদিও ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী নেতাদের সতর্ক করে ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন, কিন্তু শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে দল ও প্রতীক টিকিয়ে রাখা তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাত এখন কেবল দলের অন্দরের বিষয় নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।