মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল বিস্ময়! বহরমপুরে উদ্ধার নবাবী আমলের প্রাচীন কামান

মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল বিস্ময়! বহরমপুরে উদ্ধার নবাবী আমলের প্রাচীন কামান

নবাব নগরী মুর্শিদাবাদের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হলো বহরমপুরে। শহরের কাদাই এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলার সময় শ্রমিকদের সাবলের আঘাতে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এল প্রায় ৭ ফুট দীর্ঘ একটি বিশালাকৃতি কামান। প্রাচীন এই নিদর্শনটি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ঘটনাস্থলে ভিড় জমান কৌতূহলী মানুষ। প্রাথমিকভাবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের অনুমান, এটি মুর্শিদাবাদের নবাবী আমলের সামরিক শক্তির অন্যতম নিদর্শন।

ইতিহাসের সাক্ষী এই কামান

উদ্ধার হওয়া ভারী লোহার কামানটিতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা জং থাকলেও এর মূল গঠন কাঠামো এখনো অটুট রয়েছে। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বা তাঁর পরবর্তী শাসনকালে মুর্শিদাবাদ ছিল বাংলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। সেই সময় নবাবী সেনাবাহিনীতে এ ধরনের কামানের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। পলাশীর যুদ্ধ কিংবা বিভিন্ন ঔপনিবেশিক সংঘাতে এই কামানের ভূমিকা বাংলার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাস গবেষকদের মতে, এই কামানটি কেবল একটি ধাতব বস্তু নয়, বরং বাংলার গৌরবময় সামরিক ইতিহাস ও অতীতে এখানকার অস্ত্র নির্মাণের সক্ষমতার এক জীবন্ত দলিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ও সংরক্ষণ

খবর পেয়েই বহরমপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কামানটি উদ্ধার করে সুরক্ষার জন্য খাগড়া ফাঁড়িতে স্থানান্তর করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা খুব দ্রুতই কামানটির সময়কাল, নির্মাণশৈলী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশদভাবে পরীক্ষা করে দেখবেন। মুর্শিদাবাদের কাটরা মসজিদের ‘জাহানকোষা’ কিংবা হাজারদুয়ারির ‘বাচ্ছাওয়ালি তোপ’-এর মতো এই নতুন উদ্ধার হওয়া কামানটিও ভবিষ্যতে পর্যটন ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা। যথাযথ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় এটি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *