আরজি কর কাণ্ড নিয়ে নির্যাতিতার নাম প্রকাশ! আইনি বিপাকে সাংসদ রচনা ব্যানার্জি

অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ রচনা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে চারু মার্কেট থানায় একটি নতুন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে অভিনেত্রী বারবার নির্যাতিতার নাম উল্লেখ করেছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী দাবি করেছেন, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে রয়েছে, যা বারবার আইনি বিধি লঙ্ঘন করছে।
পুরানো অভিযোগ কেন মাথাচাড়া দিল?
আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, আরজি কর কাণ্ডের পর ২০২৪ সালেই তিনি রচনা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে সেই সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও অভিযুক্ত ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অপসারিত না হওয়ায় এবং কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুনরায় অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো নির্যাতিতার পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, আর সেই নিয়ম ভাঙার কারণেই এবার সাংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এর সম্ভাব্য প্রভাব ও আইনি জটিলতা
জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হলেও, এই ঘটনায় অভিনেত্রী যে আইনি ও নৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছেন, তা স্পষ্ট। ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিশেষ ধারায় নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হলে সাংসদ পদমর্যাদার কোনো সুরক্ষা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া, বিষয়টি নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ায় রাজনীতির ময়দানেও এটি বড়সড় আলোচনার খোরাক জোগাতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তদন্তের মোড় কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।