আইআইটি প্রাক্তনী ‘আধ্যাত্মিক গুরু’-র মুখোশ খুলল মথুরায়, তরুণীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিষেক মিশ্র

আইআইটি প্রাক্তনী ‘আধ্যাত্মিক গুরু’-র মুখোশ খুলল মথুরায়, তরুণীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিষেক মিশ্র

আইআইটি ডিগ্রিধারী আধ্যাত্মিক গুরুর মুখোশ উন্মোচন, মথুরার আশ্রমে চলত নারকীয় নির্যাতন

উত্তরপ্রদেশের মথুরায় এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আইআইটি রুরকির প্রাক্তন ছাত্র অভিষেক মিশ্র। নিজেকে ‘আদিকর্তা নারায়ণ দাস’ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আধ্যাত্মিক গুরু সেজে চালাতেন প্রতারণার ব্যবসা। কিন্তু আড়ালে ঢাকা ছিল এক অন্ধকার জগত, যেখানে প্রসাদে মাদক মিশিয়ে তরুণীদের যৌন নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেল করাই ছিল তাঁর মূল পেশা। মঙ্গলবার মথুরার রাধাকুঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আধ্যাত্মিকতার আড়ালে লালসার জাল

অভিষেক মিশ্র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর আধ্যাত্মিক সাধনার পথ বেছে নিয়েছিলেন। মথুরায় আশ্রম খোলার পাশাপাশি ‘রাধা কৃপা অমৃত’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তিনি ধর্মকথা প্রচার করতেন। তাঁর এই প্রচারণার জালে পা দিতেন বহু তরুণ-তরুণী। অভিযোগ রয়েছে, এই গুরু কৌশলে তাঁদের পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন করে আশ্রমে আটকে রাখতেন। প্রায় দুই ডজন তরুণ-তরুণী তাঁর আশ্রমে বসবাস করতেন, যাদের মধ্যে তরুণীরাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, তথাকথিত ‘গান্ধর্ব বিবাহ’-এর নামে তরুণীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর, প্রসাদের সঙ্গে মাদক খাইয়ে অচেতন করে চলত যৌন নিগ্রহ।

ব্ল্যাকমেলের ফাঁদ ও পুলিশের তদন্ত

অভিষেকের অত্যাচারের অন্যতম বড় মাধ্যম ছিল প্রযুক্তি। নির্যাতনের দৃশ্য গোপনে ভিডিও ও ছবি তুলে রাখতেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সেই সব ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেল করা হতো। ছত্তিশগড়ের এক সাহসী তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন এই ভণ্ড গুরু। পুলিশ তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করেছে নির্যাতনের প্রমাণ সম্বলিত বহু অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি। আশ্রমে থাকা আবাসিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারকৃত এই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঠিক কতজন তরুণী এই বিকৃত লালসার শিকার হয়েছেন, তা নিশ্চিত হতে এখন তদন্ত জোরদার করেছে মথুরা পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *