জনরোষের মুখে এবার নামখানায় কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূল নেতারা

জনরোষের মুখে এবার নামখানায় কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূল নেতারা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া কাটমানির টাকা গ্রামবাসীদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। সম্প্রতি বিজেপির পক্ষ থেকে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় নেতারা গ্রামবাসীদের থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিচ্ছেন। অভিযোগ, এলাকার ৪৫টি পরিবারের কাছ থেকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে পরিবারপিছু ৫ হাজার টাকা করে কাটমানি নেওয়া হয়েছিল। রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র জনরোষ এবং গণদাবির মুখেই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন অভিযুক্তরা।

তৃণমূল নেত্রীর হুঁশিয়ারি বনাম বাস্তব চিত্র

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারবার দেওয়া কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নীচুতলার নেতাদের এই প্রবণতা বন্ধ হয়নি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই দলনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, দলের নাম করে কেউ টাকা তুললে প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। দল এই ধরনের কোনো টাকা নেয় না উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষকে এক টাকাও কাটমানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বাস্তবের মাটিতে নেত্রীর সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করেই বিভিন্ন এলাকায় এই তোলাবাজির প্রক্রিয়া সচল ছিল, যার খেসারত এখন নেতাদের দিতে হচ্ছে।

রাজ্যজুড়ে কাটমানি ফেরতের হিড়িক ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনা কেবল নামখানাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাজ্যের একাধিক প্রান্তে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দিনকয়েক আগে কোচবিহারের ঘুঘুমারিতে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার তরফ থেকে কাটমানির টাকা ফেরতের কথা মাইক বাজিয়ে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ইসলামপুরের সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েতেও আবাস যোজনার কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জনরোষের কারণেই নেতারা এখন জনসমক্ষে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই প্রবণতা রাজ্যের শাসক দলের ভাবমূর্তিকে যেমন বড়সড় ধাক্কা দিচ্ছে, তেমনই পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ স্তরে দলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র সংকট তৈরি করছে। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ আগামী দিনে গ্রামীণ রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *