CM শুভেন্দুকে ট্যাগ করে গরুর মাংস নিয়ে পোস্ট, তারপরই পুলিশি পদক্ষেপ— নেপথ্যে কী?

CM শুভেন্দুকে ট্যাগ করে গরুর মাংস নিয়ে পোস্ট, তারপরই পুলিশি পদক্ষেপ— নেপথ্যে কী?

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উস্কানিমূলক ও বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট করার অভিযোগে এক বাঙালি মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত মহিলার নাম জ্যোৎস্না বিবি। তিনি মূল বাসিন্দা দক্ষিণ দিনাজপুরের দামোদরপুর গ্রামের হলেও বর্তমানে কাজের সূত্রে হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের চকপুর এলাকার চন্দ্রলোকে স্বামী ফজুর রহমানের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।

বিতর্কিত ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর চকপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তৎপর হয়ে জ্যোৎস্না বিবিকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় ওই মহিলার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) নথিবদ্ধ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্য কারণ

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, জ্যোৎস্না বিবি নিজের রান্নাঘরে কড়াইতে গরুর মাংস রান্না করছেন এবং একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণ ও মন্তব্য করছেন। ভিডিওতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, “তুমি আমাকে এবার কোরবানি করতে দাওনি। অথচ তুমি নিজেই অন্যের বাড়িতে গিয়ে দু’বাটি গরুর মাংস খাও। তুমি মাংস ভালোবাসো, তাই আমি তোমার জন্য এই মাংস আর রুটি তৈরি করেছি।”

ভিডিওটির শেষ অংশে ওই মহিলার ক্ষোভ ও রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র রূপ নেয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতৃত্ব হিন্দুদের উস্কে দিচ্ছে বলে দাবি করে তিনি মন্তব্য করেন, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং উপরওয়ালা এর বিচার করবেন। এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বার্তার জেরেই বিষয়টি আইনি মোড় নেয়।

সামাজিক ও আইনি প্রভাব

তদন্তকারীদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ধরণের স্পর্শকাতর ভিডিও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উস্কানি ছড়াতে পারে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যে ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, তা মূলত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই গ্রেফতারির ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো ধরণের উস্কানিমূলক বা আপত্তিকর মন্তব্যPost করার ক্ষেত্রে একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *