মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সাইরেন, কুয়েত ও বাহরিনের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের দ্বীপে আমেরিকার পাল্টা আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সাইরেন, কুয়েত ও বাহরিনের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের দ্বীপে আমেরিকার পাল্টা আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবার এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই আকস্মিক হামলার জবাবে মার্কিন সেনাবাহিনীও আর বসে থাকেনি। তারা সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে কেশম দ্বীপে একটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। দুই শক্তির এই প্রত্যক্ষ সংঘাতের ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং অঞ্চলটি চরম অস্থিরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

দাবি ও পাল্টা দাবির লড়াই

হামলার পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ওপর হওয়া পূর্ববর্তী যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা কঠোর জবাব দেওয়ার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এই হামলার মাধ্যমে তারই সত্যতা প্রমাণিত হলো। তবে ইরানের এই বড় ধরনের সাফল্যের দাবিকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ছোঁড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই তার নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারেনি এবং মার্কিন বাহিনীর ওপর চালানো সব হামলাই সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

ব্যর্থ হামলা ও মার্কিন প্রতিরোধ

মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান নিজের প্রতিবেশী দেশগুলোকে টার্গেট করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুঁড়েছিল। এর মধ্যে কুয়েতের দিকে ছোঁড়া দুটি মিসাইল মাঝ-আকাশেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে অথবা সেগুলো লক্ষ্যবস্তু থেকে অনেক দূরে গিয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বাহরিনের দিকে ছোঁড়া তিনটি মিসাইল যৌথভাবে মার্কিন ও বাহরিনের শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা তিনটি ইরানি ড্রোনকেও মার্কিন সেনা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা বিধ্বংসী স্ট্রাইক চালায়।

সংঘাতের কারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং পারস্য উপসাগরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাই এই সাম্প্রতিক সংঘাতের মূল কারণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি ও ড্রোন মোতায়েনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তাপ বাড়ছিল।

এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। প্রথমত, পূর্বের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পারস্য উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুই দেশের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *