ছুটি শেষ হলেও কাটছে না গরম, পড়ুয়াদের সুরক্ষায় এবার সকালেই খুলবে রাজ্যের স্কুল

ছুটি শেষ হলেও কাটছে না গরম, পড়ুয়াদের সুরক্ষায় এবার সকালেই খুলবে রাজ্যের স্কুল

রাজ্য জুড়ে ক্রমশ পারদ চড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তীব্র অস্বস্তিকর তাপপ্রবাহ। এরই মধ্যে নিয়ম মাফিক রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলোতে গরমের ছুটি শেষ হয়েছে। কিন্তু স্কুল খুললেও আবহাওয়া বিন্দুমাত্র মনোরম হয়নি, উল্টে গরমের দাপট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চরম পরিস্থিতিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এবং তাদের সুরক্ষায় এক বড়সড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তীব্র গরমের হাত থেকে পড়ুয়াদের বাঁচাতে আগামী ২ সপ্তাহের জন্য স্কুলগুলির পঠনপাঠন সকালের শিফটে করার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নবান্ন ও বিকাশ ভবনের তরফ থেকে। নতুন এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করতে রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর।

পরিবর্তিত সময়সূচি ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত

সোমবার দীর্ঘ গরমের ছুটির অবসানে স্কুলগুলির দরজা খুলতেই শিক্ষাদপ্তরের তরফ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যেভাবে গরমের দাপট বাড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে স্কুলগুলি নিজেদের মতো করে সময় নির্ধারণ করতে পারবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট এলাকার গরমের তীব্রতা ও সুবিধা অনুযায়ী স্কুলের দৈনিক পঠনপাঠনের সময়সূচি ঠিক করা যাবে এবং প্রয়োজন মনে করলে স্কুলগুলি অনায়াসে সকালে ক্লাস করাতে পারে। এই নির্দেশিকাটি শুধুমাত্র প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সকালে স্কুল চালু করা বা কোন সময়ে ক্লাস করা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সবথেকে বেশি সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত হবে, স্থানীয় পরিস্থিতি বিচার করে জেলা স্কুল পরিদর্শকেরা সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

চলতি বছরে রাজ্যে তীব্র দাবদাহের কারণে দফায় দফায় গরমের ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৩১ মে করা হয়েছিল এবং পূর্বঘোষিত সূচি মেনেই ১ জুন থেকে নতুন করে স্কুল খোলে। কিন্তু স্কুল খুললেও সারা রাজ্য জুড়েই গরমের দাপট এবং ভ্যাপসা অস্বস্তি একইভাবে অব্যাহত রয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে নতুন করে আর স্কুল বন্ধ রাখলে পড়ুয়াদের সিলেবাস শেষ করা বা পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

পঠনপাঠনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রেখে মাঝরাস্তায় স্কুল পুরোপুরি বন্ধ না করার লক্ষ্যেই এই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। সকালে ক্লাস হওয়ার ফলে একদিকে যেমন তীব্র রোদের হাত থেকে পড়ুয়ারা রক্ষা পাবে এবং তাদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে তেমনই কোনো বিঘ্ন ছাড়াই শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত সিলেবাসের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *