দলে গণতন্ত্র নেই, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক জাভেদ খান!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ এবার প্রকাশ্য রূপ নিল। দলের প্রবীণ বিধায়ক জাভেদ খানের সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্য শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংকটকে এক ধাক্কায় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। দলীয় গণতন্ত্রের অভাব, একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রবীণ নেতাদের কোণঠাসা করার অভিযোগ তুলে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাভেদের এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আগামী দিনে রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে বড় ধরনের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈঠকের নামে আনুষ্ঠানিকতা ও নেতৃত্বের একনায়কতন্ত্র
দলের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জাভেদ খান দাবি করেছেন, তৃণমূলের অন্দরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। বহু অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতার মতামতকে সেখানে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় না। তাঁর অভিযোগ, সিদ্ধান্ত আগে থেকেই চূড়ান্ত করা থাকে, বৈঠকগুলো করা হয় কেবল তা ঘোষণা করার জন্য। জাভেদ খান নিজে অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিন্তু কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাননি। মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকায় দলের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অন্ধকার বলে তিনি মনে করছেন।
প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও দল ছাড়ার আগাম ইঙ্গিত
দলের সাংগঠনিক সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবের একটি সংবেদনশীল উদাহরণও সামনে এনেছেন জাভেদ। তাঁর দাবি, রেড রোডে ইদের নামাজ আয়োজন নিয়ে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দলীয় বৈঠক থেকে তাঁকে সেখানে কর্মসূচি করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। দলের সেই জেদ মানলে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারত বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যদিও পরবর্তীতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নামাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে দলের ভেতরে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জাভেদ জানান। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দলে যেভাবে গণতন্ত্র হরণ করা হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে দল ছাড়ার এক বড়সড় হিড়িক পড়তে পারে। বর্তমানে যে সংখ্যার কথা শোনা যাচ্ছে, বাস্তবে অসন্তুষ্ট নেতার সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি এবং এই ক্ষোভের আগুন আগামী দিনে আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাভেদ খানের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো মুখ না খুললেও, এই ঘটনা যে শাসক দলের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।