মধ্যপ্রাচ্যে আবার যুদ্ধের দামামা, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে আবার যুদ্ধের দামামা, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের শান্তি চুক্তির আলোচনা যখন চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই আকস্মিক এক সামরিক সংঘাতে মোড় নিল পরিস্থিতি। বুধবার ভোররাতে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলার জেরে পার্শ্ববর্তী দেশ বাহরিনজুড়েও তীব্র আতঙ্কের সাইরেন বেজে উঠেছে, যা সমগ্র অঞ্চলকে একটি সম্ভাব্য বড়সড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

হামলার প্রেক্ষাপট ও কুয়েত-বাহরিনের পরিস্থিতি

বুধবার ভোরের দিকে তীব্র বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে কুয়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। কুয়েত সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকা এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির প্রশাসন। অন্যদিকে, বাহরিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বড় অংশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বাহরিনের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে দেখা গেছে। যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করা হয়েছে।

বদলা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, পারস্য সাগর, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী এবং কেশন দ্বীপে মার্কিন সামরিক তৎপরতার সরাসরি ‘বদলা’ নিতেই কুয়েতের ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিটি ধ্বংস হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের প্রতি চরম অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, আমেরিকার সাথে আলোচনার পথ এখন সম্পূর্ণ বন্ধ এবং তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পরই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এই বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে দীর্ঘদিনের শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা তৈরির প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *