৬০ বিধায়ক নিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রতর পাল্টা চাল, তীব্র সংকটে কি তবে ঘাসফুল শিবির!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মাত্র দু’দিনের মাথায় নাটকীয়ভাবে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার কুর্সি দখল করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিধানসভার অন্দরে ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনে স্পিকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক বড়সড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটালেন ঋতব্রত এবং তাঁর শিবিরের নেতারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ‘প্রধান উপদেষ্টা’ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি, তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ভাঙনের জন্য তাঁরা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।
আসল তৃণমূলের দাবি ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা
বিরোধী দলনেতার ঘরে বসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী এখন বিধানসভায় তাঁরাই আসল ও মূল বিরোধী শক্তি। তৃণমূলের প্রতীকে জিতে আসা ৫৮ জন এবং আরও দুই বিধায়কসহ মোট ৬০ জনের সমর্থন রয়েছে তাঁদের পক্ষে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নরম সুর বজায় রেখে তাঁকে পরিষদীয় দলের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ঋতব্রত। নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি নিজের শক্তিশালী পরিষদীয় দলও সাজিয়ে ফেলেছেন। যেখানে ডেপুটি লিডার হিসেবে জাভেদ আহমেদ খান, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং চিফ হুইপ হিসেবে আখরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ সন্দীপন সাহা দলনেত্রীর ‘ভাইপো’ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ করেছেন। তাঁর মতে, দলের এই শোচনীয় অবস্থার জন্য অনেকাংশে দায়ী অভিষেকের ব্যর্থতা। দলের ভালো সময়ে কৃতিত্ব নিলে, খারাপ পরিস্থিতির দায়ও যে তাঁকেই নিতে হবে, সেই কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ বিধায়করা।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের মূল কারণ দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা। বিশেষ করে যুব নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে দলের একাংশের প্রবীণ ও ক্ষুব্ধ বিধায়কদের অসন্তোষই এই ভাঙনের পথ প্রশস্ত করেছে। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সোমবারই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যার পালটা হিসেবেই এই সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল চাললেন তাঁরা।
এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। ৬০ জন বিধায়কের এই দলত্যাগ শাসক দলের ভিতকে বড়সড় ঝাঁকুনি দিল। বিধানসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ বদলে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিদ্রোহকে সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে ব্যাখ্যা করে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নিয়ে জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। এই চরম ডামাডোল আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।