স্কুলের মঞ্চ কাঁপাতে ভয় পাচ্ছে অন্তর্মুখী সন্তান? যেভাবে বাড়াবেন তার আত্মবিশ্বাস

স্কুলের মঞ্চ কাঁপাতে ভয় পাচ্ছে অন্তর্মুখী সন্তান? যেভাবে বাড়াবেন তার আত্মবিশ্বাস

স্কুলে বড় কোনো অনুষ্ঠান মানেই চারিদিকে সাজ সাজ রব, নাচ-গান আর নাটকের মহড়া। এমন সময়ে অনেক সন্তানই সানন্দে মঞ্চে ওঠার জন্য তৈরি হয়। তবে সব শিশু এক প্রকৃতির হয় না। শান্ত ও মুখচোরা স্বভাবের অনেক শিশুই মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ পাওয়ার পর খুশি হওয়ার বদলে উল্টো গুটিয়ে যায়। স্কুল যাওয়ার প্রতিও তৈরি হয় এক ধরনের অনীহা। জোর না খাটিয়ে সঠিক উপায়ে এই ভয় দূর করা সম্ভব হলে শিশুর মানসিক বিকাশ যেমন সহজ হয়, তেমনই বাড়ে তার আত্মবিশ্বাস।

ভয়ের কারণ ও জোরজুলুমের নেতিবাচক প্রভাব

অনেক বাবা-মা ভাবেন স্কুলের অনুষ্ঠানে অংশ না নিলে সন্তান হয়তো বাকিদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে। এই আশঙ্কা থেকে তারা শিশুর অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করতে শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোরজুলুম করার ফলে অন্তর্মুখী শিশুরা আরও বেশি গুটিয়ে যেতে পারে। শান্ত স্বভাবের শিশুদের ক্ষেত্রে ভয় একটি স্বাভাবিক বিষয়। তাই শুরুতেই বকাঝকা না করে তার অনাগ্রহের আসল কারণটি বোঝা জরুরি। ভয়কে এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে তা শিশুর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো বড় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সে ভয় পায়।

মনোবল বাড়াতে বাবা-মায়ের ভূমিকা

শিশুর মনের এই জড়তা কাটাতে বাড়িতেই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠান বা পারফরম্যান্সের প্রস্তুতি যাতে ভয়ের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য বাবা-মাকেই এগিয়ে আসতে হবে। অবসরে সন্তানের সঙ্গে বসে তার খামতিগুলো দূর করতে সাহায্য করা এবং ঘরেই নিয়মিত অনুশীলনের অভ্যাস করানো ইতিবাচক ফল দেয়। পারফরম্যান্স যেন কেবল বাবা-মাকে খুশি করার জন্য না হয়, বরং নিজের আনন্দের জন্য হয়—এই বোধটি শিশুর মনে তৈরি করা জরুরি।

ভুলত্রুটি মেনে নিয়ে পাশে থাকার বার্তা

অনুষ্ঠানের দিন শিশুর পাশে থাকা এবং তার প্রতিটি প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সব প্রস্তুতির পরেও মঞ্চে আশানুরূপ পারফরম্যান্স নাও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিরক্তি বা হতাশা প্রকাশ করলে শিশুর মনোবল পুরোপুরি ভেঙে যায়। এর বদলে সন্তান যে নিজের শতভাগ চেষ্টা করেছে, সেই আন্তরিকতাকে সাধুবাদ জানাতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বাবা-মা পাশে আছেন—এই আশ্বাসটুকুই শিশুর মনের ভয় দূর করে আগামী দিনে নতুন যেকোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার সাহস জোগায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *