মধ্যবিত্তের মুখে হাসি, হু হু করে কমছে সোনা ও রুপার দাম

মধ্যবিত্তের মুখে হাসি, হু হু করে কমছে সোনা ও রুপার দাম

টানা কয়েকদিন আকাশছোঁয়া থাকার পর দেশের বাজারে বড়সড় পতনের মুখে পড়েছে সোনা ও রুপার গ্রাফ। গত ৩ জুন বাজারে বড় পতনের পর আজ, ৪ জুনও দেশজুড়ে নিম্নমুখী মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম। সকালে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) ফিউচার্স ট্রেডিংয়ে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও, খুচরো বাজারে সোনা এখনও তার সর্বোচ্চ স্তর থেকে অনেকটাই নিচে রয়েছে। উৎসব ও বিয়ের মরশুমের আগে মূল্যের এই পতন স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি এনেছে সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মনে।

আজ বাজারে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৬,৩৬০ টাকা থেকে ১,৫৯,৩৮০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে, গহনা তৈরির ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৩,১০০ টাকা থেকে ১,৪৬,৩৪০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। সোনার পাশাপাশি মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিচ্ছে রুপার দামও। গতকাল জাতীয় বুলিয়ন বাজারে রুপার দাম প্রতি কেজিতে এক ধাক্কায় ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়েছিল।

কলকাতা ও দেশের বড় শহরগুলির দরদাম

আজ দেশের মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৯,৩৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৬,১০০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতেও কলকাতার সমপরিমাণ দাম বজায় রয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৯,৫৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের দাম ১,৪৬,২৩০ টাকা ধার্য হয়েছে। দেশের মেট্রো শহরগুলির মধ্যে আজ চেন্নাইয়ে সোনার দাম সবচেয়ে চড়া (২৪ ক্যারেট ১,৬১,২৪০ টাকা), অন্যদিকে নয়ডায় সোনা মিলছে সবচেয়ে সস্তায় (২৪ ক্যারেট ১,৫৬,৩৬০ টাকা)।

অন্য পরিমাপে, রুপার বাজারেও আজ বড় তারতম্য দেখা গেছে। মেকিং চার্জ এবং ৩ শতাংশ জিএসটি বাদে নয়ডা ও গাজিয়াবাদে ৯৯৯ বিশুদ্ধ রুপার দাম প্রতি কেজি ২,৭৯,৯০০ টাকা। পাশাপাশি দিল্লিতে এর দাম প্রতি কেজি ২,৮৯,৯০০ টাকা এবং মুম্বইতে ২,৯৫,৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই ও হায়দ্রাবাদে রুপার দাম কিছুটা বেশি, সেখানে প্রতি কেজি রুপা বিকোচ্ছে ৩,০২,৯০০ থেকে ৩,০৫,৯০০ টাকার মধ্যে।

দাম কমার কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক দাম কমার নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অচলাবস্থার জেরে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে, তা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার চড়া রাখতে পারে।

যেহেতু সোনা থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায়执行, তাই সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে ব্যাঙ্ক বন্ড বা সরকারি প্রকল্পে টাকা খাটানো বেশি লাভজনক মনে করেন। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদা কমায় ভারতীয় বাজারেও এর দাম এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা কমেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী কয়েকদিন বাজারে ধাতুর দাম আরও কিছুটা স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী থাকতে পারে, যা খুচরো ক্রেতাদের কেনাকাটার জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *