শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন পড়ালেই কড়া নজরদারির নির্দেশ শিক্ষা দফতরের, বাড়ছে কড়াকড়ি

শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন পড়ালেই কড়া নজরদারির নির্দেশ শিক্ষা দফতরের, বাড়ছে কড়াকড়ি

সরকারি ও সরকার অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন পড়ানোর অভ্যাসের বিরুদ্ধে ফের কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। আইন অমান্য করে যারা এখনও ব্যক্তিগত লাভের জন্য টিউশন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফ থেকে নতুন করে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আরটিই (রাইট টু এডুকেশন) আইন এবং কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে এই সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ার পর রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। অভিযোগে জানানো হয়েছে, বহু শিক্ষক এখনও বেআইনিভাবে টিউশন ব্যবসা চালাচ্ছেন। এমনকি, নিজেদের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের তাদের কাছেই প্রাইভেট পড়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং টিউশন না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার মতো ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটছে। এই মানসিক চাপ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।

পুরনো নিয়মের কঠোর প্রয়োগ

শিক্ষা দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০১১ সালের স্কুল শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তির নিয়মটি এখনও বহাল এবং তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সেই নোটিস অনুযায়ী, কোনও সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না। তবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের সুবিধার্থে স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি কোনও ‘রেমেডিয়াল কোচিং’ বা বিশেষ অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করে, তবে সেখানে শিক্ষকরা অবশ্যই ছাত্রছাত্রীদের নিখরচায় সাহায্য করতে পারবেন।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

শিক্ষা দফতরের এই নতুন তৎপরতার ফলে স্কুল স্তরে শিক্ষকদের বেআইনি টিউশন বাণিজ্য অনেকটাই থমকে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের ক্লাসের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের পড়ুয়ারা অনৈতিক মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাবে। আদেশ অমান্যকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলে এই প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *