আইনি স্বস্তির পরও কাটছে না মেঘ, ভিনেশ বিতর্কে অনড় কুস্তি ফেডারেশন

আইনি স্বস্তির পরও কাটছে না মেঘ, ভিনেশ বিতর্কে অনড় কুস্তি ফেডারেশন

ভারতের কুস্তি অঙ্গনে তারকা কুস্তিগির ভিনেশ ফোগাট ও জাতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (ডব্লিউএফআই) মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনী ট্রায়ালে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও বিতর্কের জেরে ভিনেশকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস পাঠিয়েছিল ফেডারেশন। ডব্লিউএফআই সূত্রে জানা গেছে, ভিনেশের দেওয়া জবাব ইতিমধ্যেই তাদের হাতে পৌঁছেছে এবং সেটি কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার আইনি বাধা কাটলেও, ফেডারেশনের অনমনীয় মনোভাব ভিনেশের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ম্যাটের লড়াই থেকে টেবিলের সংঘাত

বিতর্কের সূত্রপাত জাতীয় ট্রায়ালের কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে প্রতিপক্ষ নিশুর বিরুদ্ধে ০-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন ভিনেশ। নিশুর একটি সম্ভাব্য ‘পিনফল’ বা অবদমনের সুযোগকে পাশ কাটিয়ে রেফারি ভিনেশকে বিতর্কিতভাবে ৪ পয়েন্ট দিলে ম্যাটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি চরম রূপ নেয় যখন ভিনেশের স্বামী সোমবীর রাঠি ক্ষোভে ম্যাটের দিকে জলের বোতল ছুড়ে মারেন। পরবর্তীতে ভিডিও রিভিউ স্ক্রিনের প্রযুক্তিগত বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে ডব্লিউএফআই সভাপতি সঞ্জয় সিং ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ভিনেশের কোচ ও সমর্থকদের তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়, যার জেরে ট্রায়াল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলাভঙ্গের এই সামগ্রিক ঘটনার দায় বর্তেছে ভিনেশের ওপর, যার প্রেক্ষিতেই এই শোকজ।

তারকাখ্যাতি নয়, প্রাধান্য পাবে পারফরম্যান্স

এই সংঘাতের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে ভারতীয় কুস্তির নির্বাচন প্রক্রিয়ায়। ডব্লিউএফআই সভাপতি সঞ্জয় কুমার সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, ট্রায়ালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কুস্তিগিরদের আচরণ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। ফেডারেশন এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের সাফল্য, তারকাখ্যাতি বা রাজনৈতিক প্রভাব কোনো কাজে আসবে না। সম্পূর্ণ মেধা, বর্তমান পারফরম্যান্স এবং কঠোর শৃঙ্খলার ভিত্তিতেই আগামীতে দল গঠন করা হবে। ফেডারেশনের এই অনমনীয় নীতি দেশের প্রতিষ্ঠিত কুস্তিগিরদের জন্য এক বড় বার্তা, যা জাতীয় দলে শর্টকাটের মাধ্যমে প্রবেশের সমস্ত পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *