তৃণমূলে বিরাট রদবদল, সুব্রতর জায়গায় চন্দ্রিমা! গুরুত্ব কমল অভিষেকের?

তৃণমূলে বিরাট রদবদল, সুব্রতর জায়গায় চন্দ্রিমা! গুরুত্ব কমল অভিষেকের?

দলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা এবং চরম ডামাডোলের মাঝেই সংগঠনে মেগা রদবদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিনের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর স্থলাভিষিক্ত হলেন প্রবীণ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদলের মাধ্যমে সংগঠনের সমস্ত ভার শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে না রেখে বিভিন্ন স্তরের অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিল শীর্ষ নেতৃত্ব।

দায়িত্বের বিকেন্দ্রীকরণ ও সংগঠনে রদবদল

সংসদীয় রাজনীতি ও জাতীয় স্তরে দলের অবস্থান শক্ত করতে যুগ্ম জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। রাজ্য সহ-সভাপতি পদে এসেছেন সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে মলয় ঘটককে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ বিতর্কের আবহে হকারদের জন্য আলাদা সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মদন মিত্রকে। মহিলা তৃণমূলের নেতৃত্বে এলেন মালা রায় এবং যুব সংগঠনের দায়িত্বে বহাল রইলেন সায়নী ঘোষ। তবে ছাত্র সংগঠনে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে নতুন মুখ হিসেবে আনা হয়েছে। কৃষক সংগঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বেচারাম মান্না ও এসসি/এসটি সেলের দায়িত্বে এসেছেন বীরবাহা হাঁসদা।

ফিরহাদকে নিয়ে ধোঁয়াশা ও অরূপে ভরসা

এই রদবদলে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে। ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি এবং বিধাননগর থানায় জোড়া অভিযোগের পরেও নতুন কমিটিতে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন অরূপ বিশ্বাস। অন্যদিকে, শুক্রবারই মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া ফিরহাদ হাকিমকে সংগঠনে বড় পদ দেওয়ার কথা শোনা গেলেও, প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম নেই। আবার তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বা জয়া দত্তদের মতো যুবনেতারা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, গৌতম দেবদের মতো বর্ষীয়ান নেতাদের সঙ্গে একই স্তরে জায়গা করে নিয়েছেন।

ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা সামলে দলকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়াই এখন তৃণমূলের এই রদবদলের প্রধান কারণ। দলের কর্মীদের মনোবল ফেরানো, অন্তর্কলহ রোধ করা এবং সংগঠনে নতুন ও পুরাতনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতেই এই বিকেন্দ্রীকরণের পথে হেঁটেছে ঘাসফুল শিবির। এই নতুন নেতৃত্ব আগামী দিনে দলের ভাঙন রুখে সংগঠনকে কতটা কার্যকরভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *