যুব তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল বিজেপির, তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা!

উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাতে ব্যারাকপুরের তালপুকুর বড়পোল এলাকায় অবস্থিত ওই কার্যালয়টির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিবাদ চরম রূপ ধারণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগী কাউন্সিলর তথা ব্যারাকপুর টাউন যুব তৃণমূলের সভাপতি রাজা পাসওয়ানের কার্যালয়টি ঘিরেই ঘটনার সূত্রপাত। শুক্রবার রাতে বিজেপির একাধিক মণ্ডলের সভাপতি ও কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ, বিজেপির ব্যারাকপুর-২ মণ্ডল সভানেত্রী অনামিকা নাগের সঙ্গে তৃণমূল নেতার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। এর পরপরই বিজেপি কর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে তৃণমূলের ফ্লেক্স, ফেস্টুন ও দলীয় প্রচার সামগ্রী সরিয়ে দেয়। তৃণমূল শিবিরের দাবি, অফিসের ভেতর থেকে জমির দলিলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ বিজেপির
পার্টি অফিস দখলের কারণ হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির ব্যারাকপুর-২ মণ্ডলের সভানেত্রী অনামিকা নাগ দাবি করেন, সরকারি ও বেআইনিভাবে দখল করা জমির ওপর এই কার্যালয়টি তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এখানে মদ্যপান, মাদক সেবন এবং বহিরাগতদের এনে অসামাজিক কাজকর্ম চালানো হতো। বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সন্তোষ সিংহের অভিযোগ, এই কার্যালয়টি ব্যবহার করে এলাকায় তোলাবাজি, বাজার দখল ও সরকারি জমি বিক্রির সিন্ডিকেট চালানো হতো। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন বলেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পর থেকে ব্যারাকপুর ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া হওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি নজরদারি ও টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।