আর জি কর কাণ্ডে সিবিআই-এর আইনজীবীর যোগসাজশ, বিস্ফোরক অভিযোগ নির্যাতিতার বাবার

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের মোড় ফেরাতে চলেছে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজা এবং আইনজীবী পার্থ দত্তর বিরুদ্ধে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা। এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিক ও আইনজীবীর বিরুদ্ধে ভয়ের অভিযোগ
নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, সিবিআই-এর পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং বয়ান শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন যে, সিবিআই-এর শেখানো বয়ানের বাইরে কিছু বললে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে আটকে রাখা সম্ভব হবে না। এছাড়া আইনজীবী পার্থ দত্ত তাঁদের আদালতে কী বলতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। আদালতের কার্যক্রমে সিবিআই আইনজীবীর আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্যাতিতার বাবা অভিযোগ করেন যে, নির্মল ঘোষের আইনজীবীকে আশ্বস্ত করে সিবিআই-এর আইনজীবী বলেছিলেন, কিছু হবে না।
তদন্তের আওতা নিয়ে বিতর্ক ও মায়ের দাবি
জলহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে-কে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না থাকায় তদন্তের গণ্ডিতে আনা সম্ভব হয়নি। সিবিআই-এর এই যুক্তি মানতে নারাজ পরিবার। অন্যদিকে, নির্যাতিতার মা অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি তুলে অধ্যাপক সুমিত রায় তপাদারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নির্যাতিতাকে নিয়ে কোনো চলচ্চিত্র বা ছায়াছবি প্রকাশ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে পরিবার। বিচারের দাবিতে তাদের এই অনড় অবস্থান তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।