ডিজিটাল দুনিয়া কাঁপিয়ে এবার দিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টি, তৈরি হবে কি নতুন ইতিহাস!

নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে আজ এক ভিন্নধর্মী আন্দোলনের সাক্ষী হলো দেশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র ব্যানারে সমবেত হয়েছেন হাজারও তরুণ-তরুণী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাঙ্গাত্মক ট্রল বা কৌতুক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, আজ এই ‘জেন জি’ (Gen Z) আন্দোলন পরিণত হয়েছে এক শক্তিশালী সামাজিক-রাজনৈতিক শক্তিতে। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি এখন শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে মূলধারার রাজনীতিকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
আন্দোলন থেকে ক্ষমতার অলিন্দে
ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অতীতে একাধিক বড় রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছে বিভিন্ন গণআন্দোলনের গর্ভ থেকেই। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা বিরোধী আন্দোলনের ফসল হিসেবে জন্ম নিয়েছিল জনতা পার্টি, যা কংগ্রেসের একচেটিয়া ক্ষমতার দাপট কমিয়েছিল। পরবর্তীতে সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) কিংবা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জন লোকপাল আন্দোলন থেকে উঠে আসা আম আদমি পার্টি (এএপি) একইভাবে মূলধারার রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছিল। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আসাম গণ পরিষদ বা তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির মতো দলগুলোও আঞ্চলিক আবেগ ও দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের পথ ধরেই রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছেছে।
ডিজিটাল শক্তির নতুন বাস্তবতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি-র শক্তির প্রধান উৎস তাদের শক্তিশালী ডিজিটাল উপস্থিতি। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে এই প্ল্যাটফর্মের ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি, যা দেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের থেকেও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ তরুণ প্রজন্ম কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে আজ সরাসরি জন্তর মন্তরে হাজির হয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে। সোনম ওয়াংচুক, প্রকাশ রাজের মতো ব্যক্তিত্বদের সমর্থন এই আন্দোলনকে দিয়েছে নৈতিক ভিত্তি।
এই আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা তরুণদের ক্ষোভ মূলত প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে। সিজেপি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জন্তর মন্তরে এই বিশাল জমায়েত প্রমাণ করে যে, দেশের তরুণ সমাজ এখন আর কেবল দর্শক হয়ে থাকতে চায় না। ডিজিটাল মাধ্যমে তৈরি হওয়া জনমত আজ রাজপথে নেমে এসে শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, যা আগামী দিনে ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।