গঙ্গাসাগর যাত্রায় এবার সুখবর, ২০২৭ সালের বাজেটের আগেই মিলবে সরাসরি রেল সংযোগ

গঙ্গাসাগর যাত্রায় এবার সুখবর, ২০২৭ সালের বাজেটের আগেই মিলবে সরাসরি রেল সংযোগ

গঙ্গাসাগরগামী পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর নিয়ে এল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বয়। বহু বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরাসরি রেল মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে পুণ্যভূমি গঙ্গাসাগর। বর্তমানে কলকাতা থেকে সাগরদ্বীপে পৌঁছানোর জন্য কাকদ্বীপ বা নামখানা স্টেশনে নেমে ভেসেল ও সড়কপথে যে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রাপথ অতিক্রম করতে হয়, এবার তা অতীত হতে চলেছে। রেল মন্ত্রক ও রাজ্য প্রশাসনের সাম্প্রতিক যৌথ উদ্যোগে আগামী ২০২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগেই এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

রেল নেটওয়ার্কের বড় সম্প্রসারণ

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা রেল প্রকল্পগুলোর জট কাটাতে নবান্ন ও রেল মন্ত্রক যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো জানিয়েছেন, বাংলায় রেলের সামগ্রিক রূপান্তরে কেন্দ্র ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আওতায় রাজ্যে ৬১টি নতুন রেল প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনের মতো এতদিন রেল পরিষেবার বাইরে থাকা এলাকাগুলোকে মূল নেটওয়ার্কে নিয়ে আসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের দীর্ঘদিনের জমি জট নিরসনে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং জেলাশাসকদের এই কাজের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে উদ্যোগ

এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে নদী পারাপার ও বারবার যান পরিবর্তনের ঝামেলা পুরোপুরি দূর হবে। এর পাশাপাশি রাজ্যে ৫৩৮টি আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা শহরতলি ও মফস্বলের নিত্যদিনের যানজট দূর করতে সাহায্য করবে। রেলের আধুনিকীকরণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল পুণ্যার্থীদের যাতায়াতই সহজ করবে না, বরং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জনবহুল ও পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকায় আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন হলে তা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের রেল মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *