মিত্রের ওপরই নজরদারি? ইজরায়েলের ‘আগ্রাসী’ গোয়েন্দাগিরি নিয়ে পেন্টাগনের কড়া সতর্কতা

মিত্রের ওপরই নজরদারি? ইজরায়েলের ‘আগ্রাসী’ গোয়েন্দাগিরি নিয়ে পেন্টাগনের কড়া সতর্কতা

আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের মধ্যে এই ধরণের গোয়েন্দা নজরদারির খবর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিবেদনে উঠে আসা ঘটনাটির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু:

  • পেন্টাগনের সতর্কতা: মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা পেন্টাগনের ডিআইএ (DIA) একটি ৭ পাতার মূল্যায়ন রিপোর্টে ইজরায়েলের গুপ্তচরদের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিষয়টিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ‘ক্রিটিক্যাল’ বা উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করা হয়েছে।
  • মার্কিন আধিকারিকদের জন্য নির্দেশিকা: ইজরায়েলি নজরদারি এড়াতে মার্কিন আধিকারিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
    • ইজরায়েল ভ্রমণের সময় ‘বার্নার ফোন’ বা একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন ব্যবহার করা।
    • হোটেলের ভেতরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা না করা।
    • ল্যাপটপ বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।
  • ইজরায়েলের অবস্থান: ওয়াশিংটনের ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র পেন্টাগনের এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইজরায়েল কখনই আমেরিকার কর্মকর্তাদের ওপর কোনো নজরদারি চালায়নি।
  • রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: এই উত্তেজনার আবহে সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ ও লেবানন আক্রমণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার উত্তপ্ত কথোপকথনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ট্রাম্পের অত্যন্ত কঠোর ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পরেই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে এই গোয়েন্দা নজরদারির খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষণ:

দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বা গোয়েন্দা সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও, এই ধরণের সতর্কতা বার্তা ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন এখন ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ‘আগ্রাসী মনোভাব’ নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। মিত্র দেশের অন্দরে এ ধরণের নজরদারি চালানোর অভিযোগ দীর্ঘমেয়াদে তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *