‘ঘুটঘুটে অন্ধকারে লুকিয়ে প্রাণরক্ষা’! মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে ‘মা-বোনেদের’ কৃতজ্ঞতা জানালেন মদন মিত্র

‘ঘুটঘুটে অন্ধকারে লুকিয়ে প্রাণরক্ষা’! মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে ‘মা-বোনেদের’ কৃতজ্ঞতা জানালেন মদন মিত্র

শনিবার রাতে আচমকা ভয়াবহ হামলার মুখে পড়লেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানান যে মৃত্যুকে একেবারে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। চরম বিপদের মুহূর্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও অনুগামীদের সাহায্যে বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে ফিরে পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই দাপুটে নেতা।

অন্ধকারে লুকিয়ে প্রাণরক্ষা

শনিবার রাত ন’টা নাগাদ বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। মদন মিত্র জানান, ওয়াসিম রাজা এবং ভোলা শ্রীবাস্তব নামে দুই ব্যক্তি তাঁকে ২৩০ নম্বর রুটের বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর আচমকাই এক থেকে দেড়শো দুষ্কৃতী মোটরবাইকে চেপে সেখানে হামলা চালাতে আসে। তবে কার্যালয়ের পাশের একটি সরু গলি দিয়ে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। দক্ষিণেশ্বরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, আনোয়ার নামের এক ব্যক্তি এবং স্থানীয় মহিলারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সমস্ত বাড়ির আলো নিভিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে তাঁকে লুকিয়ে রেখে প্রাণ বাঁচান। এই নিঃস্বার্থ সাহায্যের জন্য জীবনভর তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার কথা জানিয়েছেন বিধায়ক।

হামলার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের অছিলায় এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল বলেই প্রাথমিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, খাস কলকাতায় একজন হেভিওয়েট শাসকদলের বিধায়কের ওপর এমন শয়ে শয়ে বাইকবাহিনীর হামলার ঘটনা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত নাকি অন্য কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাজ, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই হামলার ফলে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের ওপর দোষীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবল চাপ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *