ইন্ডিয়া জোট ধ্বংসের কারণ মমতা, প্রকাশ্যে নীতীশের এনডিএ যোগের আসল কারণ

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নীতীশ কুমারের আকস্মিক এনডিএ-তে যোগদানের নেপথ্য রহস্য এবার প্রকাশ্যে এল। জেডিইউ-এর কার্যকরী জাতীয় সভাপতি সঞ্জয় ঝাঁ দাবি করেছেন, বিরোধী দলগুলির ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পতন এবং নীতীশের দলবদলের মূল কারিগর ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই বিস্ফোরক দাবি সামনে আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
জোট ভাঙার নেপথ্য কারণ
জেডিইউ নেতার দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরুতে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির মধ্যে নীতীশ কুমারকে জোটের ‘আহ্বায়ক’ করার বিষয়ে একটি ঐক্যমত তৈরি হয়েছিল। মূলত নীতীশ কুমারের উদ্যোগেই বিরোধীরা এক ছাতার তলায় এসেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে জোটের একটি বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল যৌথভাবে দলিত নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে জোটের মুখ করার প্রস্তাব দেন। হঠাৎ করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে কংগ্রেস কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং জোটে ফাটল ধরে। পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত থেকে এই আকস্মিক সরে আসাই নীতীশ কুমারকে চরম হতাশ করে তোলে এবং বিরোধী জোটের প্রতি তাঁর মোহভঙ্গ হয়।
এনডিএ-তে প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক প্রভাব
ইন্ডিয়া জোটের অন্দরের এই চরম দলাদলি ও মতবিরোধের জেরে বাধ্য হয়েই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন নীতীশ কুমার। এর জেরেই ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি বিহারের মহাজোট সরকার ভেঙে দিয়ে বিজেপির হাত ধরেন এবং এনডিএ-তে ফিরে যান। নীতীশ জোট ছাড়তেই ইন্ডিয়া ব্লক কার্যত ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। যার প্রভাব দেখা যায় বাংলা ও পাঞ্জাবে, যেখানে তৃণমূল ও আপ কংগ্রেসকে আসন ছাড়তে অস্বীকার করে। বিরোধী শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ ফাটল তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে নীতীশ কুমার তৃতীয় মোদি সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।