পুলিশের নজর এড়াতে শাড়ির গাঁঠরির নিচে গা ঢাকা, হাওড়ায় নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার তৃণমূল কর্মী!

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে নাটকীয় কায়দায় গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সরকারি বস্ত্র প্রতিষ্ঠান তন্তুজর কারখানায় শাড়ির স্তূপের নিচে লুকিয়েছিলেন ওই তৃণমূল কর্মী। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের সাঁড়াশি তল্লাশিতে তাঁর এই অভিনব গা ঢাকা দেওয়ার কৌশল প্রকাশ্যে আসে এবং তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত
উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীর খোঁজে দীর্ঘদিন ধরে তল্লাশি চালাচ্ছিল আমতা থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার তন্তুজর কারখানায় হানা দেয় তারা। তল্লাশিকালে কারখানার একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রচুর শাড়ির গাঁঠরি অস্বাভাবিকভাবে সাজানো দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। এরপর একটি একটি করে গাঁঠরি সরাতেই চমকে ওঠেন পুলিশকর্মীরা। দেখা যায়, শাড়ির ভারি গাঁঠরির নিচে টানটান হয়ে শুয়ে আত্মগোপন করে রয়েছেন ওই তৃণমূল কর্মী। তৎক্ষণাৎ তাঁকে সেখান থেকে টেনে বের করে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আইনি পদক্ষেপের জন্য উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার পেঁড়ো থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শাড়ির নিচে লুকিয়ে থাকার এই হাস্যকর কৌশল প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গ্রেপ্তারির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার মূল কারণ লুকিয়ে রয়েছে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগের মধ্যে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়েছেন যে, ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সেই নির্দেশিকা মেনেই রাজ্যজুড়ে পুলিশের এই কড়া ধরপাকড় অভিযান চলছে। ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারি সেই আইনি পদক্ষেপেরই একটি অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের এই জিরো-টলারেন্স নীতির ফলে অভিযুক্তদের মধ্যে যেমন প্রবল আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, তেমনই এই ধারাবাহিক গ্রেপ্তারির জেরে হাওড়া জেলা তথা রাজ্যের তৃণমূল স্তরের রাজনীতিতে আগামী দিনে বড়সড় রদবদল ও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।