নিরাপদ আশ্রয়েও রেহাই নেই! ইজরায়েলি সেনার গুলিতে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর

নিরাপদ আশ্রয়েও রেহাই নেই! ইজরায়েলি সেনার গুলিতে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর

ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের হেবরন এলাকার তেল রুমিদা থেকে উঠে এল এক অমানবিক ঘটনার খবর। মাত্র সাত মাসের একরত্তি শিশুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত বিশ্ব। শুক্রবার ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনা প্যালেস্তিনীয় ভূখণ্ডে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে।

শুক্রবার দিনের বেলায় ফাহদ আবু হাইকাল তাঁর পরিবারকে নিয়ে গাড়িতে করে যাওয়ার সময় হেবরনের তেল রুমিদা এলাকায় ইজরায়েলি বাহিনীর মুখোমুখি পড়েন। সেনার পক্ষ থেকে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও, নিহতের পরিবারের বয়ান সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফাহদ জানান, নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি গাড়ি থামান। গাড়ির পিছনের আসনে থাকা স্ত্রীর কোলে ছিল সাত মাসের শিশুসন্তান। কোনো আগাম সতর্কতা বা পরিস্থিতি বোঝার সুযোগ না দিয়েই বাহিনী এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। সেই গুলিতেই প্রাণ হারায় ওই শিশু, আহত হন স্বয়ং ফাহদ নিজেও।

স্বজনহারার বয়ানে উঠে এল ভয়াবহতার চিত্র

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বাবা ফাহদ আবু হাইকালের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় পর্যাপ্ত আলো ছিল এবং সেনাসদস্যরা গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের পরিচয় সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। তিনি সরাসরি ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতা নিহতের পরিবারকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শোকাতুর পরিবার।

অশান্ত পরিস্থিতির বলি সাধারণ নাগরিক

প্যালেস্তিনীয় ভূখণ্ডে নিয়মিত বিরতিতে ঘটে চলা এমন সহিংসতা আন্তর্জাতিক মহলে ইজরায়েলের ভূমিকার ওপর নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের ওপর সামরিক বাহিনীর এমন হামলার ঘটনা স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা কেবল একটি শোকাবহ মৃত্যু নয়, বরং চলমান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের এক মর্মান্তিক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে অস্থিরতাকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *