রক্তে লাল সমুদ্রতট! ঐতিহ্যের নামে ৭০০ ডলফিন-তিমির বীভৎস হত্যাকাণ্ড, শিউরে উঠছে বিশ্ব

রক্তে লাল সমুদ্রতট! ঐতিহ্যের নামে ৭০০ ডলফিন-তিমির বীভৎস হত্যাকাণ্ড, শিউরে উঠছে বিশ্ব

ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল ফারো দ্বীপপুঞ্জে (Faroe Islands) আবারও ‘দ্য গ্রাইন্ড’ (The Grind) বা ‘গ্রিন্ডাড্রাপ’ নামক বিতর্কিত শিকার উৎসবকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই প্রথাগত উৎসবের জেরে সমুদ্রতটে সারি সারি পড়ে থাকতে দেখা গেল প্রায় ৭০০-এর বেশি ডলফিন ও পাইলট তিমির নিথর দেহ। নীল সমুদ্রের জল রক্তে লাল হয়ে যাওয়ার এই দৃশ্য মানবিকতা ও প্রাণী অধিকারের প্রশ্নে ফের বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।

কী এই নৃশংস উৎসব?

ভাইকিং যুগ থেকে চলে আসা এই প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, প্রতি বছর ফারো দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয়রা সমুদ্রের তিমি ও ডলফিনের ঝাঁককে নৌকা ও জালের সাহায্যে তাড়া করে উপকূলের অগভীর জলে নিয়ে আসে। এরপর ধারালো ছুরি ও অস্ত্র নিয়ে জলে নেমে এই প্রাণীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় প্রাণীরা দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র যন্ত্রণার শিকার হয়। এবারের উৎসবে অন্তত ৪০২টি পাইলট তিমি এবং ৩০০-রও বেশি ডলফিন প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের যুক্তি বনাম পরিবেশবিদদের উদ্বেগ:

  • প্রশাসনের দাবি: ফারো দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসনের মতে, এটি তাদের শতাব্দীর প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের দাবি, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এই প্রাণীদের সংখ্যা পর্যাপ্ত এবং তারা নিয়ম মেনে ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করেই এই শিকার পরিচালনা করে।
  • পরিবেশবিদদের প্রতিবাদ: আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সি শেফার্ড’ এবং PETA-র মতো সংগঠনের দাবি, আধুনিক যুগে কেবল বিনোদন বা ঐতিহ্যের নামে এ ধরনের নৃশংস প্রাণী হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। PETA-র সভাপতি অ্যালিসা অ্যালেন একে ‘নিষ্ঠুরতার উৎসব’ বলে অভিহিত করে জানিয়েছেন, সামাজিকভাবে বসবাসকারী এই প্রাণীদের পুরো পরিবারকে একসাথে নির্মূল করা হচ্ছে, যা বাস্তুসংস্থানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আন্তর্জাতিক বিতর্ক:

এবারের উৎসবে টরসভন এলাকায় ৪০২টি পাইলট তিমি এবং স্কালাবোটনুর ও হাভালভিক মিলিয়ে ৩০০টি ডলফিন হত্যা করা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সম্প্রতি দ্বীপপুঞ্জের সংসদ প্রাণী সুরক্ষা বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করায় এই ধরনের শিকারের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হতেই বিশ্বব্যাপী প্রাণীপ্রেমী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবিকতা ও পরিবেশ রক্ষার খাতিরে এই বিতর্কিত প্রথা অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সত্ত্বেও ফারো দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসন তাদের ঐতিহ্যের পক্ষেই অটল রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *