সব সিদ্ধান্ত আমার, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে চরম হুঙ্কার দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির বিষয়ে ইজরায়েলকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাত্কারে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সাথে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা মেনে নেওয়া ছাড়া ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আর কোনো উপায় থাকবে না। ট্রাম্পের এই কড়া মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যেখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা একমাত্র আমেরিকারই রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও ইরানের মিসাইল হামলা
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই সোমবার ইজরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান। গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এটিকে সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামলার পরপরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এই হুমকি মোকাবিলা করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় এখনো কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জনসাধারণের সুরক্ষায় হোম ফ্রন্ট কমান্ডের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুকে সংযত থাকার পরামর্শ ও ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব
ইরানের এই আকস্মিক হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। মার্কিন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প এই মিসাইল হামলার পালটা জবাব না দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুকে পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান ইজরায়েলের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তা ও সংযত থাকার পরামর্শ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন-ইজরায়েল সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি এবং ইজরায়েলের একক সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।