ইতিহাসে প্রথমবার ভারতে কমছে প্রজনন হার, ধনকুবের এলন মাস্কের গলায় উদ্বেগের সুর!

ইতিহাসে প্রথমবার ভারতে কমছে প্রজনন হার, ধনকুবের এলন মাস্কের গলায় উদ্বেগের সুর!

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে এই প্রথমবার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে সামগ্রিক প্রজনন হার (টিএফআর)। ভারতের এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ও স্পেসএক্স-এর প্রধান এলন মাস্ক। তাঁর মতে, ভারতের জন্মহার এখন জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়েও নিচে নেমে গিয়েছে। বিশেষ করে দেশের উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে এই প্রবণতা বহু বছর আগেই লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যা এখন সামগ্রিক রূপ নিয়েছে।

পরিসংখ্যানের চিত্র ও মূল কারণ

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে ভারতের সামগ্রিক প্রজনন হার ২.৩ থেকে কমে ১.৯-এ দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল বা ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে যেখানে প্রজনন হার অন্তত ২.১ হওয়া প্রয়োজন, সেখানে এই পতন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের রাজধানী দিল্লির অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক, সেখানকার প্রজনন হার বর্তমানে মাত্র ১.২, যা ইউরোপের উন্নত দেশ ফিনল্যান্ডের চেয়েও কম। মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ক্যারিয়ারের প্রতি অতিরিক্ত সচেতনতা, বিলম্বে বিবাহ এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারের কারণেই ভারতের মানুষের মধ্যে সন্তান জন্মদানের আগ্রহ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সামাজিক সংকট

বর্তমানে ভারতের জনসংখ্যা ১৪৬ কোটির বেশি এবং ২০২৩ সালে চীনকে পিছনে ফেলে ভারত বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল দেশের স্থান দখল করেছে। তবে প্রজনন হারের এই ধারাবাহিক পতন বজায় থাকলে ভবিষ্যতে দেশে কর্মক্ষম যুবসমাজের সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করবে। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমলেও দেশের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের সমস্যাগুলো এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও লিঙ্গভেদের পাশাপাশি এখনও দেশের কিছু অংশে কম বয়সে মা হওয়ার কারণে প্রসবকালীন মৃত্যুর হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক, যা ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *