রেল প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটির নজরদারি! মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের টাস্ক ফোর্স গড়লেন CM শুভেন্দু

রেল প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটির নজরদারি! মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের টাস্ক ফোর্স গড়লেন CM শুভেন্দু

রেল প্রকল্পে গতি আনতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ, টাস্ক ফোর্স গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের বুকে রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে কেন্দ্র থেকে। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজের বার্তা দিয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার হয় এবং প্রকল্পগুলোর কাজ যেন কোনো বাধা ছাড়াই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে, তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের রেল প্রকল্পগুলোর ওপর কড়া নজরদারির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের শক্তিশালী টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে রাজ্য সরকার।

২০ সদস্যের মেগা টিম ও কাজের রূপরেখা

মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে গঠিত এই ২০ সদস্যের টাস্ক ফোর্সে রাখা হয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবহণ সচিব, ভূমি সচিব, পূর্তসচিব ও কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও এই দলের অংশ করা হয়েছে। রেলের সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয় বজায় রাখতে কমিটিতে থাকছেন রেল বোর্ডের (পরিকাঠামো) সদস্য এবং মুখ্যসচিবের কার্যালয়ের ওএসডি সহ আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

কারণ এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব

সাধারণত পশ্চিমবঙ্গে যেকোনো বড় পরিকাঠামো বা রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, স্থানীয় প্রশাসনিক ছাড়পত্র এবং আইন-শৃঙ্খলার মতো সমস্যাগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে বহু প্রকল্প এই সমন্বয়হীনতার কারণে বছরের পর বছর ঝুলে থেকেছে। এই জটিলতা দূর করতেই মূলত মুখ্যমন্ত্রী এই বিশেষ টাস্ক ফোর্স গড়ে দিয়েছেন। রাজ্য ও রেলের শীর্ষ কর্তারা একই টেবিলে থাকায় এখন থেকে যেকোনো সমস্যার তাত্ক্ষণিক সমাধান সম্ভব হবে।

এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে চলমান ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলোর গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। ১ লক্ষ কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগের সঠিক বাস্তবায়ন হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে, প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ হলে স্থানীয় স্তরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং বড় আকারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্রকে বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *