‘প্রকল্পের নামে মন্দির ছিল, তাই…’ বাংলায় আয়ুষ্মান চালু হতেই ৬ বছরের বঞ্চনা নিয়ে তৃণমূলকে তুলোধোনা CM শুভেন্দুর!

‘প্রকল্পের নামে মন্দির ছিল, তাই…’ বাংলায় আয়ুষ্মান চালু হতেই ৬ বছরের বঞ্চনা নিয়ে তৃণমূলকে তুলোধোনা CM শুভেন্দুর!

মোদী সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প অবশেষে বাংলায়, ‘মন্দির’ বিতর্কে তৃণমূলকে তীব্র নিশানা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা। প্রকল্প চালুর প্রথম দিনেই রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৮ সালে দেশজুড়ে চালু হওয়া এই স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প থেকে এতদিন বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের আপত্তির পেছনে ‘মন্দির’ সংক্রান্ত একটি ধর্মীয় মনস্তত্ত্ব কাজ করছিল বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তৃণমূলের বিরোধিতার নেপথ্যে ‘মন্দির’ বিতর্ক

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০১৮ সালে দেশের সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের চিকিৎসা সহায়তার কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঐতিহাসিক প্রকল্প চালু করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে তৎকালীন রাজ্য সরকার বাংলায় এটি কার্যকর করতে দেয়নি। এর পরিবর্তে রাজ্যে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প চালু করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মূল নামের সাথে ‘মন্দির’ শব্দটি যুক্ত ছিল, যা তৎকালীন শাসক দলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মেরুকরণের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। মূলত এই নামকরণের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূল সরকার গত ছয় বছর ধরে বাংলার সাধারণ মানুষকে একটি উন্নতমানের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

বঞ্চনার অবসান ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন কেন্দ্রীয় এই প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর না থাকায় পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিন রাজ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন। কারণ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা ভিন রাজ্যের সমস্ত বড় হাসপাতালে পাওয়া যেত না। এখন বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ার ফলে রাজ্যের বাসিন্দারা দেশজুড়ে তালিকাভুক্ত যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি কর্পোরেট হাসপাতালে বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটার ফলে রাজ্যের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহুলকাংশে কমিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *