হস্টেল থেকে মুক্তি পেতেই প্রথম শ্রেণির শিশুকে ঠান্ডা মাথায় খুন! দুই ছাত্রীর ডায়েরিতে লেখা ছিল ‘ভয়াবহ প্ল্যান’

হস্টেল থেকে মুক্তি পেতেই প্রথম শ্রেণির শিশুকে ঠান্ডা মাথায় খুন! দুই ছাত্রীর ডায়েরিতে লেখা ছিল ‘ভয়াবহ প্ল্যান’

মুক্তির অদম্য বাসনায় প্রথম শ্রেণির শিশুকে ঠান্ডা মাথায় খুন, কৃষ্ণনগরের হস্টেলকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই নাবালিকা!

নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কুইন্স উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের হস্টেলে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হস্টেলের বন্দি জীবন থেকে চিরতরে মুক্তি পেতেই নবম শ্রেণির দুই পড়ুয়া মিলে এই নৃশংস খুনের পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ৬ জুন হস্টেলের বাথরুম থেকে ওই শিশুটির দেহ উদ্ধার হওয়ার পর, তদন্তে নেমে হস্টেরই দুই নাবালিকাকে গ্রেপ্তার করেছে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ। ধৃতদের ডায়েরি ও খাতা থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য, যেখানে আগে থেকেই লেখা ছিল, ‘বিরাট কিছু ঘটতে চলেছে’ এবং ‘বন্ধ হবে হস্টেল’।

স্বাধীনতার খোঁজে নৃশংসতা ও পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাবি

পুলিশি জেরায় ধৃত দুই পড়ুয়া স্বীকার করেছে যে, হস্টেলের কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবন তাদের কাছে দমবন্ধকর হয়ে উঠেছিল। তাদের ধারণা ছিল, বড় কোনো অঘটন ঘটলে হস্টেল ও স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে। বাড়িতে থাকলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার যে স্বাধীনতা মিলবে, হস্টেলে তা সম্ভব ছিল না। এই মানসিকতা থেকেই তারা প্রথম শ্রেণির ওই শিশুটিকে বালতির জলে ডুবিয়ে খুন করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, বয়ঃসন্ধির এই সময়ে বাইরের জগতের প্রতি আকর্ষণ এবং হস্টেল থেকে পালানোর তীব্র জেদ থেকেই এই চরম অপরাধের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

পারিবারিক অস্থিরতা ও মানসিক বিকৃতি

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত দুই ছাত্রীর পারিবারিক পটভূমিও স্বাভাবিক নয়। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, দুই পড়ুয়ার পরিবারেই তীব্র অশান্তি রয়েছে এবং তারা মা-বাবার স্নেহ-যত্ন থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিল। এই পারিবারিক অস্থিরতা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। মনোবিদদের মতে, মা-বাবার আচরণগত ত্রুটি, অতীতে কোনো হেনস্থার শিকার হওয়া অথবা অপরাধের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে সম্যক ধারণার অভাবের কারণেই কৈশোরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এমন নির্মম অপরাধ ঘটিয়ে ফেলেছে ওই দুই পড়ুয়া। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে ধৃতদের মানসিক পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *