আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা চালাচ্ছে পাকিস্তান! রাষ্ট্রসংঘে তীব্র ক্ষোভ ভারতের

আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হয়েছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় পাকিস্তানকে ‘ঘৃণার সংগঠিত কারখানা’ বলে উল্লেখ করেছে দিল্লি। ভারতের স্পষ্ট বার্তা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হচ্ছে, তা আসলে কোনো সামরিক অভিযান নয়, বরং সুপরিকল্পিত গণহত্যা।
সীমান্ত সংঘাত ও হামলার নেপথ্য কারণ
চলতি বছরের শুরু থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সন্ত্রাস দমনের অজুহাত দেখিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে দফায় দফায় নির্মম বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের রাষ্ট্রদূত পর্বথানেনি হরিশ জানান, নিজেদের চরম অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান এই আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সমাজকে বিভ্রান্ত করতে ইসলামাবাদ ‘ফিতনা আল-हिंदुस्तान’ নামের কাল্পনিক পরিভাষা ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রক্সি যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতাবাদে উসকানি দেওয়ার মনগড়া অভিযোগ তুলছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সম্ভাব্য প্রভাব
পাকিস্তানের এই আগ্রাসন ও ভারতের তীব্র বিরোধিতার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পবিত্র রমজান মাসে চালানো এই বিমান হামলায় অসংখ্য সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু ও শিশুদের অনাথ হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারত একে পাকিস্তানের ভণ্ডামির জঘন্যতম উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চালানো এই হামলার ফলে পাক-আফগান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে আফগানিস্তানের পাশে ভারতের এই দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করে যে, কৌশলগত বন্ধুত্বের খাতিরে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দিল্লি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ফোরামে সোচ্চার হতে প্রস্তুত।