তৃণমূল ভাঙিয়ে লোকসভায় এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি, তবুও কি অধরা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা?

লোকসভার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ধরেছে এবং দলটির প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই মর্মে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে চিঠিও জমা দেওয়া হয়েছে। স্পিকার এই চিঠি গ্রহণ করলে জাতীয় রাজনীতিতে একদা এনডিএ ছেড়ে আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই বিদ্রোহ বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার নতুন সমীকরণ
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ২৪০টি আসন পায় এবং বিভিন্ন শরিক দল মিলিয়ে এনডিএ-র মোট আসন সংখ্যা ২৯২-এ পৌঁছয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৩৬২ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। মহিলা সংরক্ষণ বা ‘এক দেশ এক ভোট’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি এনডিএ-র ছিল না। তবে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনডিএ-তে যোগ দিলে তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে ৩১২-তে দাঁড়াবে। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে শাসক দলের শক্তি কিছুটা বাড়লেও, তা কাঙ্ক্ষিত দুই-তৃতীয়াংশ ম্যাজিক ফিগার থেকে এখনও অনেকটাই দূরে।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল
সংবিধান সংশোধনের মতো বড় লক্ষ্য পূরণ করতে এনডিএ-কে আগামী দিনে আরও অনেক বেশি সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে হবে। মূলত বিল পাসের ক্ষেত্রে শরিকদের উপর নির্ভরতা কমাতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জানা গেছে, ‘মিশন কমপ্লিট’ করতে বিজেপি আগামীতে কংগ্রেস, উদ্ধব ঠাকরে বা শরদ পাওয়ার শিবিরের বিক্ষুব্ধ সাংসদদেরও দলে টানার চেষ্টা করতে পারে। শুধু লোকসভা নয়, রাজ্যসভাতেও এই দলবদলের ধারা অব্যাহত রেখে বড় ধরনের ‘অপারেশন লোটাস’ চালানোর জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।