কর্নাটকে থামছে না কংগ্রেসের গৃহযুদ্ধ! ডিকের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে দিল্লি ছুটলেন ক্ষুব্ধ বিধায়করা

কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের অন্দরে ক্ষমতা ও দপ্তরের বন্টন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের শপথ গ্রহণের পর মসৃণ শাসনের দাবি করা হলেও বাস্তবে সেই স্বস্তি মেলেনি। মন্ত্রিসভা গঠনের পর তিন দিন পার হতে না হতেই সরকারের অন্দরের তীব্র অসন্তোষ ও টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্য রাজপথে। এবার শিবকুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নালিশ জানাতে ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে পাড়ি দিয়েছেন দুই ক্ষুব্ধ বিধায়ক।
দিল্লিযাত্রার নেপথ্যে পদের লড়াই
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুব্ধ এই দুই নেতার একজন হলেন কৃষ্ণ বাইর গৌড়া এবং অন্যজন রিজওয়ান আরশাদ। কৃষ্ণ বাইর গৌড়া মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও এখনও তাঁর নির্দিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব বুঝে নেননি। তাঁর দাবি, বেঙ্গালুরু উন্নয়ন পর্ষদ (বিডিএ) এবং বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন উন্নয়ন পর্ষদ (বিএমআরডিএ)-কে তাঁর অধীনস্থ দপ্তরের আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে, রিজওয়ান আরশাদের স্পষ্ট আবদার—তাঁকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর আগে আট বারের বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান নেতা রামালিঙ্গা রেড্ডিও গুরুত্বপূর্ণ বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর না পেয়ে ক্ষোভে পদত্যাগ করেছিলেন। শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে এই দপ্তর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা নিজের কাছে রেখে দেওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়। রামালিঙ্গা ইস্যু সাময়িক মিটেছে দাবি করা হলেও নতুন করে দুই বিধায়কের দিল্লিযাত্রা প্রমাণ করছে যে ক্ষোভের আগুন পুরোপুরি নেভেনি।
অস্থিরতায় কর্নাটক সরকারের ভবিষ্যৎ
এই ধারাবাহিক বিদ্রোহের ফলে কর্নাটকে নতুন কংগ্রেস সরকারের প্রশাসনিক কাজের গতি ব্যাহত হওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার গঠনের শুরুতেই মন্ত্রীদের পদত্যাগ ও হাইকমান্ডের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা জনসমক্ষে শাসকদলের ভাবমূর্তি সংকটে ফেলছে। এখন সমস্ত নজর দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর। হাইকমান্ড যদি এই বিদ্রোহীদের দাবি মেনে নেয়, তবে কর্নাটক মন্ত্রিসভায় ফের বড় ধরনের রদবদল অনিবার্য। আর যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কড়া অবস্থান নেয়, তবে রাজ্য কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল আরও চওড়া হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই সরকারের স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।