বুলডোজারের ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেল অবৈধ মন্দির ও মসজিদ, তীব্র উত্তেজনার জেরে জয়পুরে বন্ধ ইন্টারনেট!

বুলডোজারের ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেল অবৈধ মন্দির ও মসজিদ, তীব্র উত্তেজনার জেরে জয়পুরে বন্ধ ইন্টারনেট!

রাজস্থানের জয়পুরে একটি বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জগতপুরা এলাকায় প্রশাসনিক অভিযানে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় স্থাপনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় যাতে কোনো বড় ধরনের সংঘাত না ঘটে, সেজন্য সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো রোধ করতে এবং আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষায় আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ওই এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাস্তা চওড়া করার উদ্দেশ্যেই এই অভিযান

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জগতপুরা এলাকায় রেল লাইনের সমান্তরাল রাস্তার প্রস্থ যেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮০ মিটার হওয়ার কথা, সেখানে অবৈধ জবরদখলের কারণে তা কমে মাত্র ২৫-৩০ মিটারে দাঁড়িয়েছিল। ফলে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এই জনদুর্ভোগ এড়াতে রাস্তাটি চওড়া করার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় নগরোন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। তবে ওই অংশে একাধিক ধর্মীয় স্থাপনা থাকায় বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল ছিল। প্রশাসন জানিয়েছে, স্থাপনাগুলি সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেই আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই নোটিসের নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

স্থাপনা ভাঙার খতিয়ান ও সামাজিক প্রভাব

এই উচ্ছেদ অভিযানে একটি মসজিদ, দু’টি মন্দির, একটি সৎসঙ্গের হল এবং একটি মাজার সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদটি ১৯৮১ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো। এত বছরের পুরনো ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে সাময়িক ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি বড় কোনো সহিংসতার রূপ নেয়নি এবং দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই অভিযানের ফলে দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে চললেও, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগার কারণে সৃষ্ট এই সাময়িক অসন্তোষ স্থানীয় সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *