চাকরি বিক্রির ফাঁদ! বাঁকুড়ায় গ্রেফতার তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

চাকরি বিক্রির ফাঁদ! বাঁকুড়ায় গ্রেফতার তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

রাজ্যে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন তোলপাড়, ঠিক সেই সময়েই ফের আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ায়। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে শাসক দলের তিন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার রাতে তাঁদের গ্রেফতার করার পর মঙ্গলবার খাতড়া মহাকুমা আদালতে তোলা হয়।

প্রতারণার জাল ও অভিযোগ

ধৃত তৃণমূল নেতাদের মধ্যে রয়েছেন খাতড়া ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের প্রাক্তন খাতড়া ব্লক সভাপতি তথা বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হিড়বাঁধ ব্লকের তৃণমূল নেতা বিদ্যুৎ রায়। খাতড়ার বৈদ্যনাথপুর এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্তরা অনলাইন ও নগদ মিলিয়ে মোট ৩ লক্ষ টাকা নেন। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে ১ লক্ষ টাকা নগদে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও বাকি ২ লক্ষ টাকা আটকে রাখা হয়। বকেয়া টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও আদালতে প্রবেশের সময় সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পুরনো রোগের পুনরাবৃত্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

স্কুল সার্ভিস কমিশন ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে ওএমআর শিট কারচুপি করে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীসহ বহু পদস্থ কর্মকর্তা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছে হাজার হাজার চাকরি। নিয়োগ দুর্নীতির সেই কালো অধ্যায় পেরিয়ে আসার পরও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবায় ব্যাংক বা পুরসভায় টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির খবর সামনে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তির লোভ ও জবাবদিহির অভাবই এই ধরনের অপরাধ বারবার ঘটার মূল কারণ। এই ঘটনার জেরে শাসক দলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অনাস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এই প্রবণতা রোধ করা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *