বিধায়ক পদ ছাড়তেই সরকারি ত্রাণ ফেরত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের!

রাজ্যের পালাবদলের পর বিভিন্ন স্থান থেকে শাসক দলের নেতাদের বাড়ি বা পার্টি অফিস থেকে সরকারি ত্রাণ উদ্ধারের ঘটনা যখন শিরোনামে, তখন সম্পূর্ণ এক ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ল যাদবপুরে। বিতর্ক এড়াতে আগেভাগেই নিজের বাড়ি থেকে মজুত থাকা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী প্রশাসনের হাতে তুলে দিলেন যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার।
মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্তা এবং পুলিশকর্মীরা দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে পৌঁছান। এরপর শুরু হয় সামগ্রী হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। ডাইরেক্টর অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের তথ্যানুযায়ী, প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি থেকে প্রায় নয় থেকে দশ রকমের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
কী কী সামগ্রী ফেরত দেওয়া হলো?
প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ বস্ত্র ও ত্রাণ সামগ্রী। দেবব্রতের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২০০ পিস ধুতি, ৩০০ পিস হ্যান্ডলুম শাড়ি, ১০০ পিস লুঙ্গি এবং ৩০০টি কম্বল। পাশাপাশি, ১০০ পিস কুর্তি-লেগিংস, ৭৫ সেট পাজামা-পাঞ্জাবি এবং ৫০০ পিস তারপুলিনও সরকারি আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যাবর্তনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নিজের বাড়ি থেকে এই বিপুল সামগ্রী উদ্ধারের বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার জানিয়েছেন, বিধায়ক থাকাকালীন এই সামগ্রীগুলি তাঁর দায়িত্বে ছিল। যেহেতু তিনি আর বিধায়ক নন, তাই সরকারি সামগ্রী ফেরত দেওয়া তাঁর নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। তাঁর দাবি, বর্ষাকালের জন্য বরাদ্দ তারপুলিনগুলি গত ১৫ মার্চ এসেছিল, কিন্তু ঠিক পরেই নির্বাচন ঘোষিত হওয়ায় নির্বাচনী বিধিভঙ্গের আশঙ্কায় তা বিলি করা হয়নি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন নেতার বাড়ি থেকে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে জনরোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। সেখানে দেবব্রত মজুমদারের এই আগাম পদক্ষেপ বিতর্ক ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। নির্দিষ্ট সময়ের আগে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ত্রাণ সামগ্রী প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ায় এলাকায় আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।