গ্যাসের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? জরায়ু ক্যান্সারের এই ৬ লক্ষণ হতে পারে মারাত্মক!

জরায়ু বা সার্ভিকাল ক্যান্সারকে বিশেষজ্ঞরা ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণগুলো এতটাই সাধারণ হয় যে, অধিকাংশ নারী একে গ্যাস, বদহজম বা ঋতুচক্রের সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। ভারতে এই ক্যান্সারের প্রকোপ যথেষ্ট বেশি হলেও ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি অত্যন্ত দেরিতে ধরা পড়ে। মূলত সচেতনতার অভাবেই সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় না, যার ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং রোগীর জীবনঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।
বিপদের ৬টি আগাম ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত পেট ফাঁপা বা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে তলপেট বা পেলভিক অঞ্চলে একটানা ব্যথা অনুভব করা এই ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। এর পাশাপাশি, অল্প খাবারেই দ্রুত পেট ভরে যাওয়া বা ক্ষুধামন্দা এবং হঠাৎ করে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং ঋতুচক্রে হঠাৎ পরিবর্তন বা মেনোপজের পর রক্তপাত হলে তা একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।
ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের পরামর্শ উল্লিখিত উপসর্গগুলোর কোনোটি যদি টানা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া জরুরি। বিশেষত যাঁদের পরিবারে স্তন বা জরায়ু ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, জিনগত কারণে তাঁদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকরা প্রাথমিক স্তরে রোগ নির্ণয়ের জন্য পেলভিক পরীক্ষা, ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড এবং CA-125 রক্তপরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই ব্যাধি থেকে সফলভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।