বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন হামলা!

বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন হামলা!

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা এবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইরানের পাল্টা আঘাত ও হুশিয়ারি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে এই সফল ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দিতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বেশ কয়েকটি স্থানে মার্কিন হামলায় সিরিকের বেনি জেলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুটি জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতেও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান। তাদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে ধ্বংস করেছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, আমেরিকার দিক থেকে যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তারা আরও মারাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

সংঘাতের বিস্তার ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব

বাহরাইন সরকার ইরানের এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে এই ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হামলা ও পাল্টা হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *