মমতার ঘরে ফেরা নিয়ে জল্পনা, কী শর্ত দিল কংগ্রেস!

জাতীয় রাজনীতিতে পট পরিবর্তনের হাওয়া। বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সক্রিয়তা এবং কংগ্রেস হাইকমান্ডের সঙ্গে মাখামাখি নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এবং রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাৎ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। গুঞ্জন উঠেছে, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবার কি তবে পুরনো দল কংগ্রেসে ফেরার কথা ভাবছেন মমতা?
কংগ্রেসে ফেরার শর্ত ও অবস্থান
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যারা আরএসএস এবং বিজেপির স্বৈরাচারী নীতির বিরুদ্ধে লড়তে চান, তাদের জন্য কংগ্রেসের দরজা সবসময় খোলা। তবে এর জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কথায়, রাহুল গান্ধীকে আগামী দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েই তবে কংগ্রেসে আসতে হবে। পাশাপাশি, দুর্নীতির কোনো দাগ নেই এবং নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী এমন যে কেউ দলে যোগ দিতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। কোনো বিশেষ ব্যক্তির জেদ নয়, বরং দেশ বাঁচানোর তাগিদেই এই দরজা খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে।
দলবদলের প্রভাব ও নতুন সমীকরণ
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের একটা বড় অংশের নেতাকর্মী দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভার সিংহভাগ কাউন্সিলর হাতবদল হয়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় পুরবোর্ড এখন তাদের দখলে চলে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরে ভাঙনের যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা যদি বাস্তবে রূপ নেয় তবে রাজ্যের গ্রামীণ রাজনীতিতে কংগ্রেস ফের শক্ত ভিত্তি ফিরে পাবে। অন্যদিকে, জোড়াফুল শিবিরের প্রতীক ও লোগো হাতছাড়া হওয়ার আইনি জল্পনাও এই দলবদলের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে কংগ্রেসের পুনরুত্থান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।