ইজরায়েলি জেলে প্যালেস্তিনীয় বন্দিদের ওপর পৈশাচিক যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ!

ইজরায়েলি জেলে প্যালেস্তিনীয় বন্দিদের ওপর পৈশাচিক যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ!

প্যালেস্টাইনের বন্দিদের জন্য ইজরায়েলের জেলখানা যে এক নরকের সমান ছিল, তা ফের প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি তথ্যচিত্রে ইজরায়েলি সেনা ও মহিলা কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে প্যালেস্তিনীয় বন্দিদের ওপর অকথ্য যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়ংকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। ‘বডিজ অফ এভিডেন্স: ইসরায়েল’স ডার্কেস্ট ওয়েপন’ নামের এই তথ্যচিত্র প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এই ধরনের নির্যাতন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভয়ংকর নির্যাতনের বিবরণ

দীর্ঘদিন ইজরায়েলের জেলে বন্দি থাকা আল-বাকরি ও জব (নাম পরিবর্তিত) নামের দুই প্যালেস্তিনীয় যুবক তাদের ওপর চলা পৈশাচিকতার বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বন্দিদের নগ্ন করে চোখ ও হাত-পা বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পাশবিক অত্যাচার চালানো হতো। এই নৃশংসতায় ইজরায়েলের মহিলা কারারক্ষীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিত এবং সেই দৃশ্যের ভিডিও রেকর্ড করে উল্লাস করত। শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি বন্দিদের যৌনাঙ্গ কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করার জন্য হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটেছে। অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বন্দিদের আর্তনাদ করার দৃশ্য দেখে কারারক্ষীরা অট্টহাসি হাসত বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক মদত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই ধরনের নারকীয় ঘটনার পেছনে রয়েছে ইজরায়েলি রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি মদত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নেগেভ মরুভূমির একটি ক্যাম্পে বন্দিকে সেনার গণধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ্যে এলে দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি উঠলেও, কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতাদের চাপে শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। উল্টো ভিডিও ফাঁস করার ‘অপরাধে’ দেশটির এক মেজর জেনারেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইজরায়েলি সংসদে বন্দিদের ধর্ষণ আইনত বৈধ কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সরকারি দলের নেতাদের পক্ষ থেকে হামাস যোদ্ধাদের ওপর যেকোনো ধরনের অত্যাচার বৈধ বলে দাবি করা হয়েছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি এবং নিপীড়নকে ন্যায্যতা দেওয়ার মানসিকতার কারণে প্যালেস্তাইনে যুদ্ধাপরাধ ও যৌন হিংসা চরমে পৌঁছেছে। এর জেরে ২০২৫ সালের মার্চে রাষ্ট্রসংঘ যৌন হিংসার জন্য ইজরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *