অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল, দল বাঁচাতে এবার কংগ্রেসের হাত ধরছেন মমতা ও অভিষেক!

দলে লাগাতার ভাঙন এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটের মাঝেই এবার কংগ্রেসের সঙ্গে তীব্র নৈকট্য বাড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের। সম্প্রতি নয়াদিল্লির ১০ জনপথে সনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকের পর, বুধবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর দু’দিন দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই জোড়া বৈঠক ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ
একসময় যে কংগ্রেসকে ‘জমিদারি মানসিকতা’র আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ করত তৃণমূল, বর্তমানে সেই হাত শিবিরকেই অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান ভরসা হিসেবে দেখছেন ঘাসফুলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের অন্দরে ব্যাপক বিদ্রোহ এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের মতো হেভিওয়েট নেতাদের ইস্তফা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলে যেভাবে ভাঙন ধরেছে তাতে আগামী দিনে মমতা-অভিষেকের হাতে দলের নিজস্ব প্রতীক থাকবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। মূলত দলীয় প্রতীক হারানোর ভয় এবং বিপর্যয় রুখতেই পুরনো বিরোধ ভুলে কংগ্রেসের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ধারাবাহিক বৈঠকের পর দিল্লির রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই তৃণমূলের কংগ্রেসে বিলীন হয়ে যাওয়ার জল্পনা শোনা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সটান কংগ্রেসে যোগদান নিয়েও শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে। জল্পনা সত্যি হলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় স্তরে বড় কোনো পদ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাঝারি মাপের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে কংগ্রেস। দলীয় প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার প্রবল আশঙ্কার মুখে এই সংযুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে।