প্রয়োজনে নিজে গিয়ে টাটাদের সাথে কথা বলব, শিল্প দফতরের চেয়ারে বসেই সিঙ্গুর নিয়ে বড় ইঙ্গিত তাপসের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলায় শিল্পের চাকা ঘোরাতে আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করতে নারাজ নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর রাজ্যের নতুন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন প্রবীণ নেতা তাপস রায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই নিজের দফতরের উচ্চপদস্থ আমলা ও আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। সেখান থেকে গত তৃণমূল জমানার তথাকথিত শিল্প-উন্নয়ন নিয়ে তীব্র তোপ দাগার পাশাপাশি সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীকে ফেরানো এবং রাজ্যে বড় বিনিয়োগ আনার বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন শিল্পমন্ত্রী।
আমলাদের ৩ দফা কড়া নির্দেশ ও বিজিবিএস ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি
বিনিয়োগকারীদের পশ্চিমবঙ্গমুখী করতে এবং রাজ্যকে প্রকৃত শিল্পবান্ধব করে গড়ে তুলতে দায়িত্ব নিয়েই আমলা ও আধিকারিকদের ৩টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে অবিলম্বে তালিকা ও রিপোর্ট তৈরির কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তাপস রায়। প্রথমত, সরকারি সূত্রে জানা গেছে প্রায় ৬,৬৮৮ জন ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারী গত জমানায় বাংলা ছেড়ে চলে গেছেন; তাঁরা ঠিক কী কারণে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হলেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পূর্বতন সরকারের আমলে ঘটা করে আয়োজিত বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনগুলিতে (BGBS) যে সমস্ত মৌ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেগুলির বর্তমান বাস্তব অবস্থা কী, তার ফাইল খোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তৃতীয়ত, টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে এই মুহূর্তে শিল্প দফতরের সম্পর্ক কেমন, তা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি নিজে গিয়ে টাটা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। সিঙ্গুরে গাড়ি কারখানা ছাড়াও টাটাদের অন্য যে সব ব্যবসা রয়েছে, সেগুলিকে রাজ্যে নিয়ে আসতে সরকার সর্বোতভাবে চেষ্টা করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
১০০ দিনের মধ্যে ল্যান্ড পলিসি ও অমিত শাহের সফর
বিগত সরকারের শিল্পনীতিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তাপস রায় জানান, গত পনেরো বছরে রাজ্যে শিল্পও হয়নি, কৃষিও হয়নি। বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনকে ‘স্রেফ লোক দেখানো ও মানুষকে ভাঁওতা দেওয়ার বিষয়’ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, নতুন সরকারও শিল্পের জন্য সম্মেলন করবে, তবে তা হবে সম্পূর্ণ বাস্তবমুখী। শিল্পায়নের স্বার্থে জমি জোগাড়ের জট কাটাতে নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই একটি স্বচ্ছ ‘জমি অধিগ্রহণ পলিসি’ বা ল্যান্ড পলিসি তৈরি করা হবে।
এদিকে, আগামী ১৩ তারিখ এ রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি হাওড়ার সাঁকরাইলের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে আমুল (Amul) গোষ্ঠীর ৬৫০ কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগের একটি আধুনিক কারখানার উদ্বোধন করবেন। নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের দেওয়া ‘শিল্পের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার’ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে একেই প্রথম বড় মাইলফলক এবং অন্য বড় শিল্পপতিদের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও শিল্প মহল।